অনলাইন ডেস্ক

সকালবেলা অফিস বা বিশ্ববিদ্যালয়ে সময়মতো পৌঁছানো অনেকের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই তাড়াহুড়োয় গোসলের পর হেয়ার ড্রায়ারের ওপর নির্ভর করা স্বাভাবিক। তবে নিয়ম মেনে ব্যবহার না করলে ড্রায়ার চুলের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সঠিক পদ্ধতি জানা থাকলে ড্রায়ার ব্যবহার করেও চুলকে সুস্থ রাখা সম্ভব।
১. হিট প্রোটেক্ট্যান্ট ব্যবহার করুন
ড্রায়ারের আগে ভালো মানের হিট প্রোটেক্ট্যান্ট স্প্রে বা সিরাম ব্যবহার করুন। এটি চুলের ওপর সুরক্ষামূলক একটি স্তর তৈরি করে এবং অতিরিক্ত তাপের ক্ষতিকর প্রভাব কমায়। ফলে চুল ভাঙতে কমে, আর্দ্রতা বজায় থাকে এবং উজ্জ্বলতা দীর্ঘসময় ধরে থাকে।
২. প্রতিদিন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
প্রতিদিন ড্রায়ার ব্যবহারে চুলের প্রাকৃতিক তেল কমে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে সপ্তাহে কয়েকদিন চুলকে স্বাভাবিক বাতাসে শুকাতে দিন। এতে চুল ও স্ক্যাল্পের স্বাভাবিক আর্দ্রতার ভারসাম্য বজায় থাকে।
৩. উচ্চ তাপমাত্রা এড়িয়ে চলুন
উচ্চ তাপমাত্রা চুলের কিউটিকল স্তর ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই লো বা মিডিয়াম হিট সেটিং ব্যবহার করুন। ড্রায়ার চুল থেকে অন্তত ৬–৮ ইঞ্চি দূরে রাখলে তাপের প্রভাব কমে।
৪. একদম ভেজা চুলে ব্যবহার নয়
গোসলের পর চুল থেকে প্রথমে নরম তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে পানি শুষে নিন। জোরে ঘষাঘষি করলে কিউটিকল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চুল হালকা স্যাঁতসেঁতে অবস্থায় ড্রায়ার ব্যবহার করলে তাপের সংস্পর্শ কম লাগে।
৫. অতিরিক্ত শুকিয়ে ফেলবেন না
চুল পুরোপুরি শুকানো রুক্ষ ও ভঙ্গুর হওয়ার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, চুল ৮০–৯০ শতাংশ শুকিয়ে গেলে ড্রায়ার বন্ধ করে দিন।
৬. কুল শট ব্যবহার করুন
ড্রায়িংয়ের শেষ পর্যায়ে কুল শট বা ঠান্ডা বাতাস ব্যবহার করলে চুলের কিউটিকল স্তর বন্ধ হতে সাহায্য করে। এতে চুল মসৃণ, উজ্জ্বল এবং ফ্রিজ কম থাকে।
সঠিক নিয়মে হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করলে এটি চুলের ক্ষতির কারণ নয়, বরং সময় বাঁচানোর কার্যকর উপায় হতে পারে। তবে অতিরিক্ত তাপ এবং অনিয়মিত ব্যবহারে চুলের স্থায়ী ক্ষতির ঝুঁকি থাকে। তাই চুলের স্বাস্থ্য রক্ষায় এই নির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


