বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ট্রাম্পকে সমর্থন দেয়নি পশ্চিমা মিত্ররা, জানাল রয়টার্স

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি ‘মুক্ত’ করতে ন্যাটো ও পশ্চিমা মিত্রদের সামরিক সহায়তা চাইলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাননি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং সম্ভাব্য সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়িয়ে অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ সরে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

অতীত অভিজ্ঞতাই বড় কারণ

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লোহিত সাগরে সাম্প্রতিক সামরিক অভিজ্ঞতা পশ্চিমাদের এই সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রেখেছে। ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী-এর হামলা মোকাবিলায় দীর্ঘ সময় অভিযান চালিয়েও পুরোপুরি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা।

হুথিদের হামলায় অন্তত চারটি জাহাজ ডুবে গেছে এবং বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। ফলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট—বাব আল-মান্দেব প্রণালি—এখনও ঝুঁকিপূর্ণ রয়ে গেছে এবং অনেক শিপিং কোম্পানি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

হরমুজে ঝুঁকি আরও বেশি

বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি আরও জটিল। ১৯ জন নিরাপত্তা ও সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে রয়টার্স জানায়, ইরান-এর সামরিক সক্ষমতা হুথিদের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত।

বিশেষ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কাছে রয়েছে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, ভাসমান মাইন এবং নিজস্ব অস্ত্র উৎপাদন অবকাঠামো। পাশাপাশি হরমুজের সংকীর্ণ ও পাহাড়ঘেরা উপকূলীয় ভৌগোলিক অবস্থান নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও কঠিন করে তোলে।

১৯৮৮ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় ওই অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করা সাবেক মার্কিন রিয়ার অ্যাডমিরাল মার্ক মন্টগোমারি বলেন, “হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ সুরক্ষা দেওয়া লোহিত সাগরের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন।”

দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের আশঙ্কা

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে লোহিত সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে জাহাজ চলাচল সুরক্ষা মিশন শুরু হয়, যেখানে পরে ইউরোপীয় দেশগুলোও যুক্ত হয়। শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসের পরও ২০২৪-২৫ সময়কালে হুথিরা একাধিক জাহাজে সফল হামলা চালাতে সক্ষম হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, একই ধরনের পরিস্থিতি হরমুজে সৃষ্টি হলে তা আরও দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতিতে।

উত্তেজনা কমানোর কৌশল

এমন প্রেক্ষাপটে পশ্চিমা দেশগুলো সরাসরি সামরিক অভিযানে না গিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের দিকে ঝুঁকেছে। তাদের আশঙ্কা, ইরানকে ঘিরে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে বড় অর্থনীতিগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে বড় মূল্য দিতে হবে।

ফলে ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ ও হুমকি সত্ত্বেও, হরমুজ প্রণালি ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক অভিযানে যুক্ত হওয়ার পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের পথেই হাঁটছে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা।

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ