বাণিজ্য ডেস্ক

বিশ্ববাজারে টানা ঊর্ধ্বগতির পর স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী চেয়ারম্যান কে হচ্ছেন—এ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা হ্রাস পাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে নিম্নমুখী হয়েছে মূল্যবান এই ধাতুর দাম।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৪ দশমিক ১১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে আউন্সপ্রতি ৫ হাজার ১৫১ দশমিক ৯৫ ডলারে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম রেকর্ড সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছেছিল।
কেসিএমের প্রধান বাণিজ্য বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, ফেডের চেয়ারম্যান পদে তুলনামূলকভাবে কম দ্বিধাগ্রস্ত কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা, ডলারের ঘুরে দাঁড়ানো এবং অতিরিক্ত ক্রয়ের অবস্থানের কারণে স্বর্ণের দামে এই পতন দেখা যাচ্ছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ফেড চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তিনি শুক্রবার তার পছন্দের নাম ঘোষণা করতে চান। এতে করে বাজারে জল্পনা তীব্র হয় যে সাবেক ফেড গভর্নর কেভিন ওয়ার্শ এই দায়িত্ব পেতে পারেন।
স্টোনএক্সের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ম্যাট সিম্পসন বলেন, ফেড চেয়ারম্যান হিসেবে কেভিন ওয়ার্শ জেরোম পাওয়েলের জায়গা নিতে পারেন—এমন গুজব এশীয় বাজারে লেনদেনের সময় স্বর্ণের দামের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্ববাজারে দাম কমার প্রভাব পড়েছে দেশের বাজারেও। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম সমন্বয় করে ভরিতে ১৪ হাজার ৬৩৮ টাকা কমিয়েছে। নতুন দরে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৭১ হাজার ৩৬৩ টাকা।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২২ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৮৩৩ টাকা।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ১৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ দফা দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৪ দফা কমানো হয়েছে। অন্যদিকে ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয় এবং ২৯ বার দাম কমানো হয়।


