অনলাইন ডেস্ক

যশোর, শনিবার: কৃষক, বিজ্ঞানী ও নীতি নির্ধারকদের প্রতি স্থানীয় প্রজাতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার আহ্বান জানিয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণের প্রভাব থেকে সতর্ক থাকা এবং নিরাপদ জেনেটিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
শনিবার সকালে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) আয়োজিত প্রথম আন্তর্জাতিক ‘লাইফ সায়েন্স, হেলথ অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি’ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জীবন বিজ্ঞান, স্বাস্থ্য ও জৈবপ্রযুক্তি খাতে জ্ঞান বিনিময়, গবেষণা সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করার লক্ষ্যে যবিপ্রবি’র জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি অনুষদ এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, সরকার বৈজ্ঞানিক উদ্ভাবনের পক্ষে থাকলেও কর্পোরেট নিয়ন্ত্রণে প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়। জেনেটিক পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে, তবে এর মালিকানা ও অধিকার অবশ্যই স্থানীয় জীববৈচিত্র্য এবং জনগণের স্বার্থের অনুকূলে থাকতে হবে।
তিনি বলেন, স্থানীয় প্রজাতি সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষি ও জলজ সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, জেনেটিক মডিফিকেশন প্রযুক্তির মাধ্যমে উদ্ভিদ বা প্রাণীকে নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা মানবিক ও নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রহণযোগ্য নয়। এতে স্থানীয় প্রজাতি চাষে যুক্ত কৃষকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
ফরিদা আখতার বলেন, মাছ শুধু পুষ্টির উৎস নয়, ত্বকের যত্ন ও কসমেটিক শিল্পেও এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তবে যেকোনো পণ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে তা যেন সকল মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জলজ জীববৈচিত্র্যে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং এই বৈচিত্র্য দেশের জলজ সম্পদ সংরক্ষণ ও বিকাশের জন্য অপরিহার্য। স্থানীয় বাগদা চিংড়ি শুধু স্বাদে নয়, সাংস্কৃতিক গুরুত্বের দিক থেকেও বিশেষ। কিছু মৎস্য শিল্প সংশ্লিষ্ট মহল ভেনামি চিংড়ি চাষের জন্য পোনা আমদানির আবেদন করলেও, সরকার তা বন্ধ রেখে দেশীয় গলদা ও বাগদা চিংড়ির উন্নয়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানান।
—বাসস


