বিজ্ঞান ডেস্ক

আমাদের সৌরজগতকে যদি একান্নবর্তী পরিবারের সঙ্গে তুলনা করা হয়, তবে সূর্যকে ধরা যায় পরিবারের কর্তা, আর তার চারপাশে ঘুরছে আটটি গ্রহ, যারা যেন সূর্যের সন্তান। এই গ্রহদের মধ্যে পৃথিবী অন্যতম। কিন্তু গ্রহদের জন্মের ক্রম বা বয়স সম্পর্কে সাধারণ মানুষ যেমন প্রশ্ন করে, “কে বড় আর কে ছোট?”, ঠিক তেমনই বিজ্ঞানীরাও এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে বারবার গবেষণা করেছেন।
সূর্যের জন্ম এবং সৌরজগতের সূচনা
আজ থেকে প্রায় ৪৬০ কোটি বছর আগে মহাকাশের এক বিশাল ধুলো ও গ্যাসের মেঘ বা নেবুলা ধসে পড়েছিল। এই ধূলা ও গ্যাস মিশ্রিত মেঘ ক্রমে ঘন হয়ে সূর্যের জন্ম দেয়। সূর্যের জন্মের পর সৌরজগতের বিভিন্ন উপাদান ক্রমে একত্রিত হয়ে গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণু ও অন্যান্য আকাশযান গঠন করে।
গ্রহদের জন্মকাল
সূর্যের জন্মের কিছু মিলিয়ন বছর পরই গ্রহগুলি গঠিত হতে শুরু করে। তবে গ্রহদের মধ্যে কোনটি আগে জন্মেছে তা নির্ধারণ করা সহজ নয়। বিজ্ঞানীরা সাধারণত গ্রহদের জন্মকাল আন্দাজ করার জন্য ব্যবহার করেন:
-
রেডিওমেট্রিক ডেটিং – গ্রহাণু, উল্কাপিণ্ড ও চাঁদের চুনাপাথরের উপর ভিত্তি করে।
-
সৌরজগতের গঠন মডেল – ধুলো ও গ্যাসের ঘনত্ব, তাপমাত্রা, এবং সংঘর্ষের হিসাব।
বিতর্কিত বিষয়: সবচেয়ে বয়ষ্ক গ্রহ
বিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক মূলত দুটি কারণে:
-
গ্রহগুলোর গঠন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে শুরু হয়েছে।
-
সঠিক তারিখ নির্ধারণ করা কঠিন, কারণ প্রাথমিক উপাদানগুলি পরবর্তীতে একত্রিত হয়েছে।
সাধারণভাবে বলা যায়, সৌরজগতের গ্যাসীয় বৃহৎ গ্রহ যেমন বৃহস্পতি ও শনি তুলনামূলকভাবে আগে গঠিত হয়েছে। অন্যদিকে পৃথিবী, শুক্র, মঙ্গল প্রায় একই সময়ে গঠিত হলেও, সূক্ষ্ম পার্থক্য থাকতে পারে। তবে সূর্যের জন্মের পর প্রথম কয়েক মিলিয়ন বছরে উভয় ধরনের গ্রহের বীজ রূপে উপস্থিত হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের সংক্ষিপ্ত মতামত
-
বৃহস্পতি (Jupiter): অনেক গবেষক মনে করেন বৃহস্পতি ছিল প্রথম বড় গ্রহ যা সূর্যের চারপাশে স্থিত হয়। কারণ বৃহস্পতি গ্যাসীয় হওয়ায় এটি দ্রুতই বৃহৎ আকার নেয় এবং সৌরজগতের অন্যান্য গ্রহের গতিশীলতা প্রভাবিত করে।
-
শুক্র ও পৃথিবী: সাধারণত সূর্যের জন্মের কয়েক মিলিয়ন বছর পরে স্থলভূমি গ্রহগুলো গঠিত হতে থাকে।
উপসংহার
আমাদের সৌরজগতের “বয়সের ক্রম” এখনও পুরোপুরি নির্ধারিত নয়। যদিও বৃহস্পতি এবং অন্যান্য গ্যাসীয় গ্রহ সম্ভবত প্রথম জন্মেছে, পৃথিবীসহ স্থলভূমি গ্রহগুলি একটু পরে গঠিত হয়। সৌরজগতের ইতিহাস এমন এক ধোঁয়াশা-ঢাকা অধ্যায় যা এখনও গবেষকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।


