বাসস

সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সভ্যতাসমূহের জোট (ইউএনএওসি)-এর ১১তম গ্লোবাল ফোরামে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, বৈশ্বিক শান্তি রক্ষা ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতায় বাংলাদেশের অঙ্গীকার অটুট থাকবে।
তিনি বলেন, “সুদানের কাদুগলিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের লজিস্টিকস ঘাঁটিতে সংঘটিত হামলায় ছয়জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত ও আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এটি আমাদের গভীরভাবে শোকাহত করেছে।”
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বিশ্বজুড়ে সংঘাত ও মানবিক সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে বিদেশিবিদ্বেষ, অসহিষ্ণুতা, বর্ণবাদ ও ইসলামোফোবিয়া ছড়িয়ে পড়ছে। তিনি ডিজিটাল যুগে ভুয়া তথ্য, ঘৃণাত্মক বক্তব্য ও ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি শান্তি ও মানবিক মূল্যবোধের জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
বাংলাদেশকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অন্যতম শীর্ষ সেনা প্রেরণকারী দেশ হিসেবে তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের দীর্ঘদিনের আন্তঃসাংস্কৃতিক ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। তিনি ‘শান্তির সংস্কৃতি’ বিষয়ক বাংলাদেশের বার্ষিক জাতিসংঘ প্রস্তাবের মাধ্যমে দেশের শান্তি সংক্রান্ত অঙ্গীকার প্রতিফলিত হয় বলেও জানান।
তৌহিদ হোসেন মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের মানবিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের সুযোগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফোরামে তিনি বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণদের ক্ষমতায়ন, প্রজন্মান্তরে সংলাপ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, শিল্প, ক্রীড়া ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যমের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক বিনিময় সম্প্রসারণের মাধ্যমে সহমর্মিতা ও আস্থা গড়ে তুলতে হবে।
উল্লেখ্য, ‘ইউএনএওসি: মানবতার জন্য দুই দশকের সংলাপ- বহুমুখী বিশ্বে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার নতুন যুগের অগ্রগতি’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ১৪-১৫ ডিসেম্বর ইউএনএওসি’র ১১তম গ্লোবাল ফোরাম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে রাজনৈতিক নেতা, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা, ধর্মীয় নেতা, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ, তরুণ, শিল্পী, ক্রীড়া ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।


