মোঃ খুরশীদ আলম সরকার

রমজান মাসকে সামনে রেখে ভোগ্যপণ্য আমদানি এত দ্রুত বেড়েছে যে, এবার এর পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে। তবে পর্যাপ্ত গুদাম ও খালাসের সুবিধার অভাবে লাইটার জাহাজগুলো বন্দরে দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত মঙ্গলবার বহির্নোঙরে অবস্থানরত ১০৪টি জাহাজের মধ্যে ৪৬টি জাহাজে ভোগ্যপণ্য ছিল, যার মোট পরিমাণ ২৩ লাখ ৪৬ হাজার টন। এক বছরের ব্যবধানে ভোগ্যপণ্যের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত এ থেকে সাড়ে ১০ লাখ টন পণ্য খালাস করা হয়েছে, আর প্রায় পৌনে ১৩ লাখ টন খালাসের অপেক্ষায় আছে।
সবচেয়ে বেশি আমদানি হয়েছে গমের। বন্দরে অবস্থানরত ২৫টি জাহাজে সাড়ে ১৩ লাখ টন গম রয়েছে, যার মধ্যে খালাস হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৮০ হাজার টন। ছোলা, মসুর ও মটর ডালবাহী ৭টি জাহাজে এসেছে ২ লাখ ৩৬ হাজার টন, যার মধ্যে খালাস হয়েছে এক লাখ টন। তৈলবীজবাহী ৯টি জাহাজে ৪ লাখ ৩৯ হাজার টন পণ্য এসেছে, যার মধ্যে আড়াই লাখ টন খালাস হয়েছে।
বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন বড় জাহাজ থেকে গড়ে ৫০–৬০ হাজার টন পণ্য লাইটার জাহাজে স্থানান্তর করা হচ্ছে, যা নদীপথে ঢাকা, বরিশাল, খুলনা ও অন্যান্য ঘাটে খালাস করা হয়। তবে লাইটার জাহাজের সংখ্যা কমে ১ হাজার ২২টিতে নেমে আসায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। ডব্লিউটিসিসির ২৫ জানুয়ারির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন ঘাটে পণ্য খালাসের জন্য ২৬৫টি লাইটার জাহাজ আটকে আছে, যার মধ্যে ১২২টি ভোগ্যপণ্যবাহী।
এ বিষয়ে লাইটার জাহাজ বরাদ্দ নেওয়া পরিবহন এজেন্টরা জানিয়েছেন, যেসব আমদানিকারকের নিজস্ব গুদাম নেই, তারা দ্রুত পণ্য খালাস করতে পারছেন না। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট ও প্রাচীন পদ্ধতিতে খালাসও সমস্যা বাড়াচ্ছে।
তবে বড় শিল্পগ্রুপগুলোর অবস্থান তুলনামূলকভাবে সুবিধাজনক। মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, টি কে গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ, সিটি গ্রুপ ও আকিজ রিসোর্স গ্রুপের নিজস্ব ঘাট ও ক্রেনের মাধ্যমে দ্রুত খালাস সম্ভব হওয়ায় তাদের লাইটার জাহাজ সাধারণত এক–দু’দিনের মধ্যে খালি হয়।
ডব্লিউটিসিসির মুখপাত্র পারভেজ আহমেদ বলেন, “আমদানি বেড়েছে, কিন্তু লাইটার জাহাজের সংখ্যা কমেছে। অনেক ঘাটে আধুনিক খালাসব্যবস্থা নেই। আমরা আমদানিকারকদের দ্রুত পণ্য খালাসের জন্য তাগিদ দিচ্ছি, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।”
মোঃ খুরশীদ আলম সরকার
দপ্তর সম্পাদক
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


