অনলাইন ডেস্ক

সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখার অভিযোগে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে এখন থেকে আরও কঠোর অবস্থানে থাকবে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান।
লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, জেলা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. রাজেশ মজুমদার গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সরকারি ডিউটিতে থাকার সময় পাশের একটি বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখতে যান।
এ সময় এক সাংবাদিকের ক্যামেরায় ঘটনাটি ধরা পড়ে। পরে বিষয়টি সরকারের নজরে এলে তাৎক্ষণিক তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন,
-
অভিযুক্ত চিকিৎসকের লাইসেন্স ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
-
সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুযায়ী কেন তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হবে না, সে বিষয়ে তিন দিনের মধ্যে জবাব দিতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
-
বিষয়টি নিয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এর মাধ্যমে মন্ত্রণালয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
ডিউটি ফাঁকি দিলে একই ব্যবস্থা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, সরকারি হাসপাতালে কর্মরত কোনো চিকিৎসক যদি ডিউটির সময় ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন, তবে তার বিরুদ্ধেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি জানান,
সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন জায়গায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। প্রয়োজনে এ ধরনের অনিয়ম ধরতে গোয়েন্দা নজরদারিও চালানো হবে।
রোগীসেবা নিশ্চিত করাই লক্ষ্য
মন্ত্রী বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সরকারি হাসপাতালে রোগীদের সেবা নিশ্চিত করা এবং চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতা বাড়ানো।
তার ভাষায়,
“সরকারি দায়িত্বে অবহেলা করে কেউ ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা বরদাশত করা হবে না।”
স্বাস্থ্যখাতে বার্তা
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই পদক্ষেপকে স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ রয়েছে, অনেক চিকিৎসক সরকারি ডিউটি চলাকালেই বেসরকারি চেম্বারে রোগী দেখেন, ফলে সরকারি হাসপাতালে রোগীরা সঠিক সময়ে চিকিৎসা পান না।
সাম্প্রতিক এই পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার এমন অনিয়ম বন্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে।


