অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ার প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মেটাকে (ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক) চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে মেটাকে আহ্বান জানানো হয়েছে যে, বিশেষ করে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট পর্যন্ত বাংলাদেশ-সংক্রান্ত উসকানিমূলক কনটেন্টের ওপর বিশেষ নজরদারি চালাতে হবে।
উল্লেখযোগ্য উদ্বেগের বিষয়সমূহ
-
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সহিংসতা:
-
গণ-অভ্যুত্থানে ১,৪০০ জন শিক্ষার্থী নিহত এবং হাজারো মানুষ আহত।
-
অন্তর্বর্তী সরকার দেশের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে এবং জাতীয় নির্বাচন প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ফেসবুকে সহিংসতা ও উসকানিমূলক কনটেন্টের বিস্তার:
-
ফেসবুক ব্যবহার করে সহিংসতা, ভীতি প্রদর্শন ও নির্বাচনের বানচাল করার প্রচেষ্টা চলছে।
-
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর ভিন্ন মতাদর্শের কিছু ব্যক্তি প্রকাশ্যে মৃত্যুকে সমর্থন জানাচ্ছে।
-
গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় উসকানি।
-
সংবাদমাধ্যমে হামলার ঘটনা:
-
উসকানিমূলক প্রচারণার পর দ্য ডেইলি স্টার, দৈনিক প্রথম আলোসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
-
ফলে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে এবং জনমনে ভয় সৃষ্টি হয়।
-
-
-
বিটিআরসির অভিযোগ
-
মেটা উসকানিমূলক কনটেন্ট সরাতে বা ব্লক করতে দেরি করছে।
-
সময়মতো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব অ্যাকাউন্ট থেকে আরও সহিংসতা ছড়ানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
-
বারবার অভিযোগ জানানো হলেও মেটার সাড়া যথাযথ সময়মতো পাওয়া যায়নি।
চিঠিতে তুলিত দাবিসমূহ
-
কমিউনিটি গাইডলাইন কঠোরভাবে প্রয়োগ:
-
বাংলাদেশ-সম্পর্কিত কনটেন্টের ক্ষেত্রে দ্রুত ও প্রাসঙ্গিক ব্যবস্থা।
-
-
বাংলা ভাষার কনটেন্টে নজরদারি জোরদার।
-
অভিযোগ ওঠা কনটেন্টের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ।
-
নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রিপোর্টিং ব্যবস্থা।
বিটিআরসি মনে করে, মেটার দেরি এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে বাংলাদেশের জনগণ, গণমাধ্যম ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এই চিঠি মূলত মেটাকে বাংলাদেশ-সংক্রান্ত কনটেন্টের ওপর দায়িত্বশীল নজরদারি এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করার প্রক্রিয়া।


