অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, বুধবার: সাবেক প্রধানমন্ত্রী, গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার বিকাল ৫টার দিকে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত করা হয়।
এর আগে বিকাল ৪টার দিকে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো বেগম খালেদা জিয়ার কফিন জিয়া উদ্যানে আনা হয়। দাফন শেষে সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধানরা তার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা জানান।
দাফনকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামিলা রহমান, কন্যা জাফিরা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিরা, বিদেশি অতিথি, কূটনীতিক ও বিএনপি মনোনীত শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। দাফন প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্ধারিত ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ সীমিত রাখা হয় এবং জিয়া উদ্যানে জনসাধারণের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
এর আগে বুধবার বেলা ৩টায় রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে অনুষ্ঠিত হয় বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা। লাখ লাখ মানুষের উপস্থিতিতে এটি দেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ জানাজায় রূপ নেয়। জনস্রোত সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেক জানাজার নামাজ পরিচালনা করেন। জানাজায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশি-বিদেশি শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বিদেশি অতিথিদের মধ্যে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং নেপাল, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তিন বাহিনীর প্রধানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও বিশিষ্টজনেরা জানাজায় শরিক হন। নারীদের অংশগ্রহণের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।
জানাজার আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্ম তুলে ধরেন। এরপর পরিবারের পক্ষে সংক্ষিপ্ত আবেগঘন বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি মায়ের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।
শেষ বিদায় জানাতে বুধবার সকাল থেকেই ঢাকা ও আশপাশের জেলা থেকে লাখো মানুষ মানিক মিয়া এভিনিউমুখী হতে থাকেন। সংসদ ভবন এলাকা ছাড়িয়ে খামারবাড়ি, ফার্মগেট, আসাদগেট, কারওয়ান বাজার, বিজয় সরণি ও আগারগাঁও পর্যন্ত জনতার ঢল নামে। মূল ভেন্যুতে প্রবেশ করতে না পেরে বহু মানুষ আশপাশের সড়কে দাঁড়িয়েই জানাজায় অংশ নেন।
জানাজা উপলক্ষে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র্যাবের পাশাপাশি ২৭ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়।
গণতন্ত্রের সংগ্রামে নিবেদিত এক অবিসংবাদিত নেত্রীকে বিদায় জানাতে এদিন পুরো রাজধানী রূপ নেয় শোকস্তব্ধ জনসমুদ্রে।


