বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, শেয়ারবাজার নিয়ে সরকারের বড় ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে এক ধরনের বিপ্লব ঘটতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুক্রবার চট্টগ্রাম নগরীর কাট্টলী এলাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, শুধু শেয়ারবাজার নয়, এর সঙ্গে দেশের সামগ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পখাতে বিনিয়োগও বড় আকারে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়বে এবং দ্রব্যমূল্যে স্থিতিশীলতা আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অর্থনীতির বর্তমান চিত্র ‘উদ্বেগজনক’
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সূচক (ইনডিকেটর) দেখাচ্ছে—দারিদ্র্য বাড়ছে, বিনিয়োগ কমছে, কর্মসংস্থান হ্রাস পাচ্ছে। প্রাইভেট সেক্টর মূলধনি আমদানি কমিয়ে দিয়েছে এবং ঋণ গ্রহণও কমেছে।
তিনি বলেন, “বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে এখান থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করতে চাই। আমরা জনগণের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে চাই। অর্থনীতিকে গতিশীল করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”
শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে আইন সংস্কার
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, শেয়ারবাজার আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে, যা ইতিবাচক। তবে এই সামান্য বৃদ্ধি দিয়ে বাজার চাঙ্গা হবে না।
তিনি জানান, পূর্ণাঙ্গ পরিবর্তনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারের পরিবেশ উন্নত করা হবে। কিছু আইন-কানুন সংশোধন করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ বিনিয়োগে উৎসাহিত হন।
‘গতানুগতিক বাজেট নয়’
আসন্ন বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার গতানুগতিক বাজেট করতে চায় না। এমন বাজেট প্রণয়ন করা হবে, যেখানে দেশের জনগণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে এবং একটি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হবে।
“বাজেটের সুফল জনগণের কাছে পৌঁছাতে হবে—এটাই আমাদের লক্ষ্য,” বলেন তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দরের গতিশীলতায় বৈঠক
মন্ত্রী দায়িত্ব পাওয়ার পর শুক্রবার প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে যান। এ সময় তিনি চট্টগ্রাম বন্দর-কে আরও গতিশীল করতে বন্দরে সেবাদানকারী বিভিন্ন পক্ষের নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বিমানবন্দরে তাকে শুভেচ্ছা জানাতে বিএনপির শত শত নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।


