অনলাইন ডেস্ক

শীতের সময় অনেকেরই বাত বা জয়েন্টে ব্যথা বেড়ে যায়। বিশেষত বয়স্ক ব্যক্তিদের, আর্থ্রাইটিসে আক্রান্তদের এবং হাড়ের সমস্যায় ভুগে যাদের, তাদের জন্য শীতে এই অসুবিধা আরও তীব্র হয়। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললে এই ব্যথা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
১. গরম সেঁক
শীতে জয়েন্টে ঠান্ডা জমে ব্যথা বাড়ায়। হালকা গরম পানিতে ভিজানো তোয়ালে দিয়ে ১০–১৫ মিনিট আক্রান্ত স্থানে সেঁক দিলে আরাম পাওয়া যায়। দিনে ২–৩ বার সেঁক দেওয়া যেতে পারে।
২. আদা-হলুদের চা
আদা ও হলুদে শক্তিশালী প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে। গরম পানিতে আদা ও হলুদ ফুটিয়ে ১–২ কাপ চা প্রতিদিন পান করলে জয়েন্টের ব্যথা কমে।
৩. তিল বা সরিষার তেলের মালিশ
হালকা গরম সরিষার তেলে রসুন ভেজে তা ব্যথার স্থানে মালিশ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং ব্যথা কমে।
৪. মেথি বীজ
রাতে এক চামচ মেথি ভিজিয়ে রাখুন। সকালে সেই পানি পান করলে বা মেথি গুঁড়া গরম দুধে মিশিয়ে খেলে জয়েন্টের প্রদাহ কমতে সাহায্য করে।
৫. শরীর গরম রাখা
ঠান্ডা বাড়লে জয়েন্ট শক্ত হয়ে ব্যথা বাড়ে। তাই বাইরে বের হলে জ্যাকেট, মোজা, ক্যাপ ও গ্লাভস ব্যবহার করুন। ঘরে থাকলেও প্রয়োজনে শীতবস্ত্র পরা জরুরি।
৬. নিয়মিত ব্যায়াম
হালকা হাঁটা, যোগব্যায়াম বা স্ট্রেচিং করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে ও জয়েন্ট নমনীয় থাকে। শীতে অলসতা এড়িয়ে প্রতিদিন অন্তত ২০–৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন।
৭. পর্যাপ্ত পানি পান
শীতে তৃষ্ণা কম হলেও শরীর যেন পানিশূন্য না হয়, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পানি পান করুন। ডিহাইড্রেশন জয়েন্টের ব্যথা আরও বাড়াতে পারে।
৮. ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন-ডি সমৃদ্ধ খাবার
হাড়ের শক্তি বজায় রাখতে দুধ, দই, পালং শাক, ডিম এবং সামুদ্রিক মাছ খাদ্যতালিকায় রাখুন। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করতে পারেন।
৯. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা
অতিরিক্ত ওজন হাঁটু ও কোমরের ওপর চাপ বাড়ায়, ফলে ব্যথা তীব্র হয়। সুস্থ খাবার এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।
মন্তব্য: ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী বা অসহনীয় হলে নিজে নিজে ওষুধ খাওয়ার পরিবর্তে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।


