অনলাইন ডেস্ক

দেশজুড়ে শিল্প খাতে গ্যাসসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে শিল্প-কারখানা, আবাসিক ও পরিবহনসহ প্রায় সব খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে উৎপাদনমুখী শিল্প—টেক্সটাইল, গার্মেন্টস, সিরামিক ও স্টিল খাতে কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিল্পোদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি আয় বড় ঝুঁকিতে পড়বে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, পেট্রোবাংলা ও তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে স্থাপিত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি রক্ষণাবেক্ষণে থাকায় জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এটিকেই চলমান সংকটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সরবরাহ কমে অর্ধেকে, ঘাটতি প্রায় দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুট
দুটি এলএনজি টার্মিনালের মোট সরবরাহ সক্ষমতা প্রায় ১১০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক প্রায় সাড়ে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়। কিন্তু বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে।
দেশে দৈনিক গ্যাসের মোট চাহিদা প্রায় ৪২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে সরবরাহ থাকে ২৮০০–৩০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। তবে ১৫ ফেব্রুয়ারি সরবরাহ নেমে আসে প্রায় ২২৫০ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৯৫০ মিলিয়ন ঘনফুট।
শিল্প উৎপাদনে মারাত্মক প্রভাব
শিল্পোদ্যোক্তাদের অভিযোগ, গ্যাস সংকটের কারণে কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। এতে—
-
উৎপাদন কমছে
-
রপ্তানি সময়মতো দেওয়া যাচ্ছে না
-
নতুন রপ্তানি আদেশ নেওয়া কমে গেছে
-
ব্যাংক ঋণ পরিশোধ ও শ্রমিক বেতন ঝুঁকিতে পড়ছে
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক কারখানায় উৎপাদন ২০–৩০ শতাংশে নেমে এসেছে। কিছু কারখানা পুরোপুরি বন্ধও হয়ে গেছে।
বিকল্প জ্বালানিতে বাড়ছে ব্যয়
গ্যাস না থাকায় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান ডিজেল দিয়ে বয়লার ও জেনারেটর চালাচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্যাসের তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বেশি খরচ হচ্ছে বলে জানিয়েছে শিল্প সংশ্লিষ্টরা।
আবাসিক খাতেও দুর্ভোগ
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়িতে দীর্ঘ সময় গ্যাস না থাকায় রান্নার কাজে বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
কবে স্বাভাবিক হবে পরিস্থিতি
তিতাস গ্যাসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণে থাকা এলএনজি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ চালু হয়েছে। তবে পুরো সিস্টেমে চাপ স্বাভাবিক হতে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অর্থনীতিতে বড় ঝুঁকির আশঙ্কা
শিল্প খাত সংশ্লিষ্টদের মতে—
-
শিল্প খাত টিকে না থাকলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে যাবে
-
রপ্তানি আয় কমবে
-
কর্মসংস্থান কমে যাবে
তারা দ্রুত গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


