নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনেক শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকতার পাশাপাশি সাংবাদিকতা, আইন পেশা (ওকালতি) কিংবা বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে আসছিলেন। বিশেষত মফস্বল এলাকায় এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বড় একটি অংশ অতিরিক্ত আয়ের লক্ষ্যে এসব পেশায় যুক্ত থাকলেও এতদিন এ বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট আইনি বাধা ছিল না।
তবে এবার সেই সুযোগ বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য প্রণীত নতুন এমপিও নীতিমালাতে আর্থিক লাভজনক যেকোনো পেশায় যুক্ত থাকার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
নতুন নীতিমালা জারি
রোববার (৭ ডিসেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে ২০২৫ সালের নতুন এমপিও নীতিমালা প্রকাশ করে। নীতিমালার ১১ নম্বর ধারার ১৭ উপধারার ‘ক’ ও ‘খ’—এ দুটি বিধানে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে:
-
এমপিওভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারী একাধিক চাকরিতে নিয়োজিত থাকতে পারবেন না।
-
তারা অন্য কোনো আর্থিক লাভজনক পেশায় যুক্ত থাকতে পারবেন না।
এর অর্থ, শিক্ষকতা ছাড়াও সাংবাদিকতা, আইন পেশা, ব্যবসা বা বিভিন্ন এনজিও/প্রতিষ্ঠানে চাকরি—এসব এখন আর এমপিওভুক্ত শিক্ষকতার সঙ্গে একসঙ্গে করা যাবে না।
নীতিমালার লক্ষ্য
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, নতুন এ বিধানের মূল উদ্দেশ্য—
-
শিক্ষকরা যেন পুরোদমে শিক্ষার্থীদের জন্য সময় ও শ্রম দিতে পারেন
-
প্রতিষ্ঠানসমূহে শিক্ষার মান নিশ্চিত করা
-
এবং এমপিও সুবিধার অপব্যবহার রোধ করা।
গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ছিল, বহু শিক্ষক নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে সাংবাদিকতা, ব্যবসা বা অন্যান্য পেশায় অধিক সময় ব্যয় করেন, ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান ব্যাহত হয়।
শিক্ষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
নতুন বিধান নিয়ে শিক্ষক সমাজে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
একাংশ বলছেন—শিক্ষকতার মান বাড়াতে এটি জরুরি সিদ্ধান্ত।
অন্যদিকে অনেক শিক্ষক মনে করছেন—মফস্বল এলাকায় কম বেতন ও উচ্চ ব্যয়ের কারণে অতিরিক্ত আয় ছাড়া তাদের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে।
অনেকে দাবি করছেন—সরকার যদি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন কাঠামো আরও বাস্তবসম্মত করত, তবে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হতো না।
এ নতুন নিয়ম কার্যকর হলে শিক্ষকদেরকে অতিরিক্ত পেশা ছেড়ে দিতে হবে—অন্যথায় এমপিও সুবিধা বাতিলসহ প্রশাসনিক পদক্ষেপের মুখে পড়তে হতে পারে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নীতিমালা কার্যকর করতে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও ব্যবস্থাপনা কমিটিকে কঠোরভাবে তদারকি করতে হবে।


