নিজস্ব প্রতিবেদক

সারা দেশের সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে সহকারী শিক্ষকদের চলমান আন্দোলনের প্রভাবে বার্ষিক পরীক্ষা কার্যক্রম বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়া সহকারী শিক্ষকদের একটি অংশ পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরীক্ষা বর্জন করায় বহু বিদ্যালয়ে গত কয়েক দিন ধরে স্বাভাবিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে, পরীক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকায় বাধ্য হয়ে কর্মচারী বা অশিক্ষক কর্মীদের দিয়ে পরীক্ষার খাতা বিতরণ, প্রশ্ন সরবরাহ এবং কক্ষ তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করাতে হয়েছে। এতে পরীক্ষা–ব্যবস্থার মান, শুদ্ধতা ও নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবক এবং শিক্ষা–সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
একই পরিস্থিতি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতেও। মাধ্যমিক স্তরের সহকারী শিক্ষকরা গত কয়েক দিন ধরে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। তাদের ডাকে দেশের বহু সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় গতকাল পুরোদিন পরীক্ষা নিতে পারেনি। কিছু প্রতিষ্ঠান পরীক্ষা স্থগিত করেছে, আবার কোথাও পরীক্ষার সময়সূচি পুনরায় নির্ধারণের উদ্যোগ চলছে।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষের শেষ সময় হওয়ায় এই অচলাবস্থায় অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তারা মনে করছেন, বছরের শেষদিকে এসে পরীক্ষা ব্যাহত হলে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নে সমস্যা তৈরি হবে। পাশাপাশি সিলেবাস সমাপনী, ফল প্রস্তুত ও পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তরণের প্রক্রিয়াও জটিল হয়ে পড়তে পারে।
অভিভাবকরা দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়ে বলছেন, শিক্ষকদের ন্যায়সংগত দাবি থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর উদ্যোগ নিতে হবে, তবে তা যেন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে। শিক্ষা প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের মতে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং শিক্ষাবর্ষের কার্যক্রম ঠিক রাখতে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।
শিক্ষকদের আন্দোলন অব্যাহত থাকলে বার্ষিক পরীক্ষার সার্বিক সময়সূচি এবং শিক্ষাবর্ষ সমাপ্তির পরিকল্পনা বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা শিক্ষা–বিশেষজ্ঞরা প্রকাশ করেছেন।


