ইসতিয়াক মাহমুদ মানিক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তারা। নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে মতবিনিময় সভায় কর্মকর্তারা ভোটের মাঠে নানামুখী চ্যালেঞ্জ, রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ও অর্থ প্রবেশ এবং অপতথ্য ও গুজব ছড়ানোর আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন।
মঙ্গলবার নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এ সভায় বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, রিটার্নিং কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক, ডিআইজি, পুলিশ সুপার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মোট ২২৬ জন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা অংশ নেন। সভায় নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন মাঠ প্রশাসন ও পুলিশ কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব ছাড়াই পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করতে হবে। অভিযোগ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য ও গুজব রোধে সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সাম্প্রতিক ময়মনসিংহে একজনকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটাররা যেন নিরাপদে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে বাড়ি ফিরতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, সর্বশক্তি ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় এবারের নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব। তিনি নির্বাচন কমিশনের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করে বলেন, সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা বন্ধ করার এখনই সময়।
মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরীণ ও পারস্পরিক কোন্দল, সন্দেহভাজন অপরাধীদের তৎপরতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক কনটেন্ট এবং জনবল সংকট নির্বাচন পরিচালনায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হওয়ায় ভোটারদের সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় অস্ত্র উদ্ধার জোরদার করা, এআই ও ড্রোন ব্যবহারে স্পষ্ট নির্দেশনা, আচরণবিধি লঙ্ঘনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, ভুয়া তথ্য শনাক্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতের সুপারিশ উঠে আসে।
সমাপনী বক্তব্যে সিইসি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি বৈষম্যহীন, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়নিষ্ঠ সরকার গঠনে নির্বাচন কমিশন ও মাঠ প্রশাসন সাংবিধানিক দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করবে।


