অনলাইন ডেস্ক

আদ্দিস আবাবা, ১ জানুয়ারি, ২০২৬ – বিশ্ব জুড়ে নতুন বছর ২০২৬ সালকে স্বাগত জানানো হয়েছে। তবে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়ায় এই উচ্ছ্বাসের ছবি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে নববর্ষ পালিত হয় একেবারে ভিন্ন দিনে, এবং এটি কোনও দুঃখজনক ঘটনার কারণে নয়।
কারণ ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার পশ্চিমা ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রায় ৭–৮ বছর পিছিয়ে রয়েছে। এর মূল কারণ হলো যিশু খ্রিষ্টের জন্ম বর্ষ গণনার পদ্ধতিতে পার্থক্য। ৫০০ খ্রিষ্টাব্দে ক্যাথলিক চার্চ তাদের হিসাব সংশোধন করলেও, ইথিওপিয়ান অর্থডক্স চার্চ তা করেনি। ফলে ইথিওপিয়ায় নববর্ষ সাধারণত ১১ সেপ্টেম্বর পালিত হয়, এবং অধিবর্ষে (লিপ ইয়ারে) এটি হয় ১২ সেপ্টেম্বর।
ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার ১২টি মাসে বিভক্ত, প্রতিটি মাসে থাকে ৩০ দিন। বছরের শেষ বা ১৩তম মাসে থাকে পাঁচ বা ছয় দিন, যা নির্ভর করে বছরের ধরন—সাধারণ বা অধিবর্ষ।
সময় গণনার নিয়মও ইথিওপিয়ায় ভিন্ন। দিনকে দুটি ১২ ঘণ্টার ভাগে ভাগ করা হয়, যার শুরু হয় সকাল ৬টা থেকে। তাই মধ্যদুপুর এবং মধ্যরাতে ঘন্টার কাঁটা থাকে ছয়ের ঘরে। উদাহরণস্বরূপ, আদ্দিস আবাবায় কেউ যদি সকাল ১০টায় কফি খেতে আমন্ত্রণ দেয়, তবে স্থানীয় সময় অনুযায়ী এটি বিকাল ৪টায় পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইথিওপিয়ার ক্যালেন্ডার কেবল সময় গণনার একটি পদ্ধতি নয়। এটি দেশটির ধর্মীয় বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক পরিচয় এবং ঐতিহাসিক গর্বের প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হয়। আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে অন্যান্য ক্ষেত্রে তাল মিলালেও, ‘সময়ের’ ঐতিহ্যকে তারা এভাবে রক্ষা করছে।
সূত্র: বিবিসি


