সাজিদুল্লাহ ফরহাদ

যেখানে হাত দেয়া ‘অপবাদ— সেখানে চোখ দেয়াও ‘অপরাধ।
যদি এই সহজ হিসেব বুঝতে গরমিল হয়—
চরিত্রের ‘অধঃপতন কিন্তু নিজ অন্তরালে!
কারণ, তখন প্রতিটি ‘অপরাধ -অপবাদের মত,
দৃষ্টি যখন মানুসিকতা বদলে ‘শারীরিক সীমানা ‘লঙ্ঘন করতে পারে!
যদিও আমি সবার চোখে পাতানো ভদ্রলোক—
কিন্তু চরিত্র শুধু বাহ্যিক প্রদর্শনের জামা নয়,
এটি অভ্যন্তরীণ সততার পরিমাপ।
যা পাওয়ার অধিকার বা যোগ্যতা নেই,
তা চুপচাপ দেখা বা কল্পনা করাতেও নৈতিক -পচন শুরু হয়।
এই চোখ শুধু দেখে না, ‘লোভও সৃষ্টি করে।
আর সেই লোভই ভিতরের ‘লকলকে হাতকে প্রলুব্ধ করে ‘নিষিদ্ধ সীমানায়।
যখন ‘নিষিদ্ধকে ‘লোভনীয় করে তোলার মোহই হলো চরিত্রের প্রথম পরীক্ষা—
তখন সেই সমীক্ষা শুরু হয় কিন্তু চোখের পলকে।
মানুষ বলতেই তো সবার চেতনা আছে, পার্থক্য শুধু নিয়ন্ত্রণে-
এই নিয়ন্ত্রণে চরিত্র গড়ে ওঠে নিজের ভিতর নিঃশব্দ যুদ্ধে,
সেখানে বিজয়ী হওয়া মানে নিজের দৃষ্টিকে শাসন করা।
আর প্রতিনিয়ত নিজের ভিতরের আদালতকে ডেকে চরিত্রের আসল বিচার করা।
শুধু বাইরের দর্শকদের হাততালি পাওয়ার জন্য- চরিত্রের নাম নয়।
যখন বর্তমান যুগে, “হাত দেয়া” নিষেধ থাকলেও, কিন্তু “চোখ দেয়া” নিষেধের বাঁধাগুলো খোলামেলা হয়ে গেছে—
ফলে চরিত্রহীন হওয়ার সহজলভ্যতা ছড়িয়ে আছে চারিদিক, হাট-ঘাট থেকে সোশ্যাল মিডিয়াতে।
যেখানে আধুনিকতার নামে অনিয়ন্ত্রিত সমাজ-
সেখানে নিজের নিয়ন্ত্রণ আছে কিন্তু -ইসলামের দর্শনে- নজরের হেফাজত।
কারণ সনাতন দর্শনেও বলা আছে- চক্ষুই হল প্রথম দরজা, যেখান দিয়ে মায়া প্রবেশ করে।”
বিক্ষু বলে, মায়া নিয়ন্ত্রণ করো—
যেখানে হাত দেয়া নিষেধ, সেখানে চোখ ফেরানো জরুরি।
যে ব্যক্তি নিজের দৃষ্টিকে শাসন করতে পারে ,
সে নিজের ভাগ্যও বদলাতে পারে।
মানুষ হিসেবে একজন মানুষের পরিচয় শুধু বুদ্ধিমত্তা, সফলতা, ক্ষমতা,আর গ্ল্যামার নয়।
চরিত্রবান হওয়া একজন মানবের প্রকৃত কামিয়াবী।
শেষ একটু কথা আছে,,
চরিত্রহীন খেতাবটা— মানব চরিত্রে সব থেকে ‘দানব উপাধি, নিকৃষ্ট অনুচ্ছেদ।
যখন আমরা অশ্লীলতা “ঘৃণা করি” মুখে বলি,
কিন্তু ভিতরে ভিতরে মেতে থাকি সেই একই জলসাতেই।
তখন ভিতরটা কে দেখে?
খুঁজে দেখো……
(সংগৃহীত)


