
অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শাসনকালে ভারতের পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ % পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এমন উচ্চ শুল্ক সত্ত্বেও, অক্টোবরে এক অভূতপূর্ব পরিসংখ্যান দেখা গেছে — ভারতের যুক্তরাষ্ট্র-গামী রপ্তানিতে মাসে মাসে প্রগতি ঘটেছে।
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ছিল ৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা সেপ্টেম্বর মাসের তুলনায় ১৪.৫% বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি চার মাসের পতনের পর প্রথম উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি। কিন্তু তুলনায়, বছরের আগের একই সময় (অক্টোবর ২০২৪) রপ্তানি এখনও প্রায় ৮.৬% কমে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক নীতিমালায় অত্যন্ত সক্রিয়: আগস্ট ২০২৫ থেকে শুরু করে আমদানি বেশ কিছু ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০% পর্যন্ত শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এই শুল্ক প্রবণতা সব শ্রেণির পণ্যে প্রভাব ফেলেছে, বিশেষত পোশাক, গয়না ও সামুদ্রিক পণ্য (shrimp) ইত্যাদিতে। উচ্চ শুল্ক সত্ত্বেও রপ্তানিতে ফিরে আসা বৃদ্ধি বোঝায় যে, ভারতীয় রপ্তানিকারীরা আংশিকভাবে শুল্ক বোঝা সামলাতে সক্ষম হচ্ছে বা মার্কিন বাজারে তাদের উপযোগী পণ্য মিশ্রণ পরিবর্তন করছে।
ভারতে প্রকাশিত সরকারের তথ্য অনুযায়ী, FY 2025-এ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পণ্যমূলক ভারতে বেশি রপ্তানির কারণে ভারতের মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কম হয়েছে। তবে, উচ্চ শুল্ক বৃদ্ধির কারণে এ ভারসাম্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে; কারণ কিছু সেক্টর (যেমন গয়না, পোশাক, সামুদ্রিক পণ্য) শুল্ক বৃদ্ধির কারণে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দিক থেকে দুর্বল হতে পারে।
বিশ্লেষকরা দেখছেন এটি একটি সঙ্কেত হতে পারে যে অংশিক শুল্ক শিকার সত্বেও ভারতীয় রপ্তানিকারীরা নতুন কৌশল অবলম্বন করছে — যেমন উৎপাদন খরচ কম রাখা, মূল্য কাঠামা সংশোধন, অথবা মার্কিন চাহিদামূলক পণ্যে ফোকাস পরিবর্তন। অন্যদিকে, যদি শুল্ক রাখার চাপ বজায় থাকে, তা দীর্ঘমেয়াদে নির্ভরযোগ্যতা এবং লাভজনকতা প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে শ্রমসাপেক্ষ এবং কম মার্জিন সেক্টরগুলোতে।
ভারতীয় সরকার ও রপ্তানিকারকদের জন্য: শুল্ক চাপে থাকা সত্ত্বেও মার্কিন বাজারে প্রবেশ বজায় রাখতে নতুন গন্তব্য ও পণ্য মডুলেশন খতিয়ে দেখা দরকার।
কৌশলগত বৈচিত্র্য: গেম & জুয়েলারি, পোশাক বা সামুদ্রিক পণ্যের মতো শুল্ক-ঝুঁকিপূর্ণ সেক্টরগুলোর জন্য বিকল্প বাজার বা বিকল্প পণ্য স্ট্র্যাটেজি তৈরি করা যেতে পারে।
দ্বিপাক্ষিক আলোচনা: ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রনালয়কে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্ক রিব্যালান্সিং বা অংশীদারিত্বমূলক সমঝোতার জন্য আরও সক্রিয় হতে হবে।
আর্থিক সহায়তা: রপ্তানিকারকদের জন্য অর্থায়ন, ইনসেন্টিভ বা সুদহ্রাস স্কিম চালু করে তাদের শুল্ক বোঝা সামলাতে সহায়তা করা যেতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের উচ্চ শুল্ক সত্ত্বেও, ভারতীয় রপ্তানির সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১৪.৫% বৃদ্ধি দেখানো একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
এটি নির্দেশ করে যে ভারতীয় রপ্তানিকারীরা কেবল শুল্ক-চাপকে প্রতিহত করছে না, বরং অভিযোজিত কৌশল প্রয়োগ করে মার্কিন বাজারে তাদের অংশ বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তবে, এই প্রবৃদ্ধি অস্থায়ী হতে পারে যদি শুল্ক নীতির চাপে দীর্ঘমেয়াদী কৌশলগত সমস্যা সমাধান না করা হয়।


