
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্ব অর্থনীতির মানচিত্রে এখন দুটি দেশই মূল কেন্দ্রবিন্দু—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। বর্তমানে চীনের বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রায় ১৯ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার। সংখ্যাটা হাতে গোনা কঠিন, তবে সংক্ষেপে বললে ১৯ ট্রিলিয়ন ডলার। অর্থনৈতিক পরিমাপে যুক্তরাষ্ট্রের পরেই অবস্থান করছে এশিয়ার এই মহাশক্তি।
চীনের জিডিপি এখন বিশ্বের মোট উৎপাদনের প্রায় ১৮ শতাংশের সমান। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপান কিংবা চতুর্থ অবস্থানে থাকা জার্মানির সঙ্গে চীনের ব্যবধান কয়েকগুণ। বলা যায়, অর্থনৈতিক শক্তিতে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাইরে অন্য কেউ আপাতত সেই প্রতিযোগিতায় নেই।
অর্থনৈতিক শক্তির পাশাপাশি সমরশক্তিতেও চীনের অবস্থান দ্রুত শক্তিশালী হচ্ছে। বর্তমানে সামরিক সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষে, এর পরেই রাশিয়া, তারপর চীন। তবে মাও সে–তুংয়ের দেশটি যে গতিতে সামরিক খাতে বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করছে, তাতে বিশ্লেষকদের মতে রাশিয়াকে পেছনে ফেলতে তাদের আর খুব বেশি সময় লাগবে না।
বিশ্ব রাজনীতির নতুন বাস্তবতায় চীনের এই উত্থান শুধু অর্থনীতি বা সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। কূটনীতি, প্রযুক্তি, মহাকাশ গবেষণা, এমনকি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিতেও তারা ক্রমেই প্রভাব বিস্তার করছে। ফলে বৈশ্বিক নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য চীন এখন সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী—এ ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে কোনো মতভেদ নেই।
বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূরাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এক নতুন শক্তির ভারসাম্য তৈরি করছে। অর্থনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের পরের অবস্থানে থাকা চীন এখন বিশ্বশক্তির দ্বিতীয় কেন্দ্র—আর তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট: নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানো।


