অনলাইন ডেস্ক

ঢাকার খিলগাঁওয়ের ১৩ বছর বয়সী কিশোর মাহি (ছদ্মনাম) এখন প্রায়ই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে তার পরিবার ও পড়াশোনা দুটোর কাছ থেকেই। সকালে ঘুম ভাঙার পর থেকেই তার লক্ষ্য একটাই—ট্যাব বা ফোন ধরতে হবে। ডে শিফটের স্কুলে যাওয়ার আগে হাতে থাকা সামান্য সময়টুকুও কাটে ইউটিউব, টিকটক অথবা ফ্রি ফায়ার গেমে। স্কুল থেকে ফিরে আবারও সেই একই চক্র। যেন ভার্চ্যুয়াল জগতেই তার ছোট্ট দুনিয়ার পুরোটা গড়ে উঠেছে।
অভিভাবকদের ভাষ্য, মাহির এই অভ্যাস এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। পড়ার টেবিলে বসানো কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফোন বা ট্যাব না দিলে বিরক্তি, রাগ, অভিমান—সবই প্রকাশ করে সে। এমনকি খাবারও খেতে চায় না। মাহির মা নাদিয়া খান (ছদ্মনাম) বলেন, “ফোন না দিলে নানা রকম ঝামেলা করে। মনে হয় যেন নেশা ধরে গেছে। কিছুতেই সরাতে পারছি না এই আসক্তি থেকে।”
শিশু–কিশোরদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যম ও গেমিং আসক্তি বাড়ার বিষয়টি এখন আর নতুন নয়। পরিবারগুলো বুঝলেও অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কষ্টকর হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম কিশোরদের মনোযোগ, পড়াশোনা, আচরণ, সামাজিক দক্ষতা ও ঘুমের ওপর বিরুপ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে অ্যালগরিদম–নির্ভর ভিডিও অ্যাপ ও দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ গেম শিশুদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নির্ভর এক ধরনের অভ্যাস তৈরি করে, যা নেশার মতোই কাজ করে।
মাহির ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই ঘটেছে। নিজের অজান্তেই সে ডুবে যাচ্ছে ডিজিটাল নির্ভরতার গভীরে। মা–বাবা তাঁকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চাইলে উল্টো বিরক্তির মাত্রা বাড়ে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুদের হাতে মোবাইল দেওয়ার আগে বয়স ও সময়সীমার বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে। প্রয়োজনীয় নজরদারি, বিকল্প বিনোদনের সুযোগ, নিয়মিত কথোপকথন ও পারিবারিক সময় শিশুদের আসক্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। না হলে মাহিদের মতো আরও অনেক কিশোরের বাস্তব জীবন একসময় হারিয়ে যেতে পারে ভার্চ্যুয়াল দুনিয়ার অন্ধ মোহে।


