অনলাইন ডেস্ক

নতুন বছর মানেই জীবনযাপনে পরিবর্তনের সময়। অনেকেই এই সময়ে ঘর-সংগঠন, আলমারি সাজানো বা দৈনন্দিন অভ্যাসে নতুন শৃঙ্খলা আনে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়—ড্রেসিং টেবিল ও মেকআপ পণ্যের নিরাপত্তা। প্রতিদিন ব্যবহার করা মেকআপ পণ্যগুলো কি ত্বকের জন্য নিরাপদ, তা নিশ্চিত করা জরুরি।
মেয়াদোত্তীর্ণ মেকআপ কেন বিপজ্জনক?
মেকআপ পণ্যে প্রিজারভেটিভ ব্যবহৃত হয় যা সীমিত সময় পর্যন্ত কার্যকর থাকে। মেয়াদোত্তীর্ণ হলে এই সুরক্ষা কমে যায় এবং পণ্যের ভিতরে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা অন্যান্য জীবাণু জন্ম নিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, মেয়াদোত্তীর্ণ মেকআপ ব্যবহারে ত্বকে নিম্নলিখিত সমস্যা দেখা দিতে পারে:
-
র্যাশ বা চুলকানি
-
অ্যালার্জি
-
ব্রণ
-
সংক্রমণ
মেয়াদ কিভাবে বুঝবেন
মেকআপ পণ্যের প্যাকেজে সাধারণত একটি খোলা কৌটার চিহ্ন থাকে, যার পাশে লেখা থাকে যেমন 6M, 12M বা 24M। এর অর্থ হলো পণ্যটি খোলার পর কত মাস পর্যন্ত নিরাপদভাবে ব্যবহার করা যাবে।
চিহ্ন না থাকলে নিজের অনুভূতির ওপর ভরসা রাখুন। সতর্ক হোন যদি লক্ষ্য করেন:
-
পণ্যের গন্ধ বদলে গেছে
-
তরল মেকআপে স্তর বা আলাদা রঙ দেখা দিয়েছে
-
আইশ্যাডো বা ক্রিমে দাগ বা ছত্রাকের মতো দেখা যাচ্ছে
এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে পণ্যটি ব্যবহার বন্ধ করা উত্তম।
মেকআপ পণ্যের সংরক্ষণকাল
| পণ্য | নিরাপদ ব্যবহারের সময় |
|---|---|
| চোখের প্রসাধনী | মাসকারা ও তরল আইলাইনার: ৩–৬ মাস |
| ঠোঁটের সাজ | লিপস্টিক: ২–৩ বছর, লিপগ্লস: ১ বছর |
| বেস মেকআপ | ফাউন্ডেশন, কনসিলার, কমপ্যাক্ট পাউডার: ~২ বছর |
| পাউডার ব্লাশ ও ব্রোঞ্জার | সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলে ৩ বছর |
| পারফিউম ও নেলপলিশ | সুগন্ধি: ৩–৫ বছর, নেলপলিশ: ~৩ বছর (যতক্ষণ না রঙ বা ঘনত্ব বদলায়) |
মেকআপ ভালো রাখার নিয়মাবলী
-
শুষ্ক ও ঠান্ডা জায়গায় সংরক্ষণ করুন।
-
বাথরুমের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ এড়িয়ে চলুন।
-
ক্রিম বা জারে আঙুল না দিয়ে স্প্যাচুলা ব্যবহার করুন।
-
নিয়মিত ব্রাশ ও স্পঞ্জ পরিষ্কার করুন।
মেকআপ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি ত্বকের স্বাস্থ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মেয়াদোত্তীর্ণ বা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হলে মেকআপ পণ্য ক্ষতিকর হতে পারে। নিয়মিত পর্যালোচনা ও সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করে আপনি আপনার ত্বককে স্বাস্থ্যকর ও ঝলমলে রাখতে পারেন।


