
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের প্রতি যারা অবহেলা করে, তাদের কার্যক্রম সরাসরি জাতির স্বার্থের বিরুদ্ধে। এরা হয়তো তরুণ প্রজন্মের ছদ্মবেশে সমাজে প্রবেশ করেছে, কিন্তু মূলত তারা স্বাধীনতাবিরোধী প্রেতাত্মার উত্তরসূরি। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী এই প্রজন্ম দেশের ভিতরে বিষবৃক্ষ রোপণ করছে, যার ফল অরাজকতা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত এবং রাষ্ট্রীয় অবনতি।
এই তরুণরা জাতীয় ইতিহাসকে ধ্বংসের চেষ্টা করছে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিকৃত করার ষড়যন্ত্র করছে। শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে তারা রাজাকার ও আলবদরের পুনর্বাসনের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইতিহাসের বিকৃতি মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে ভ্রান্তির অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার তাদের লক্ষ্য।
তাদের কার্যক্রম বাংলাদেশের সমাজকে সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদ ও জঙ্গিবাদের জন্য উর্বর ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে তুলছে। ধর্মের নামে বিভাজন সৃষ্টি করে মানবিক মূল্যবোধের অবমূল্যায়ন করা, দেশের গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা—এসবই তাদের কৌশল। তারা বিদেশি গোয়েন্দা ও ষড়যন্ত্রকারীদের হাতিয়ার হয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সংস্কৃতির ক্ষেত্রে এরা আগ্রাসন চালাচ্ছে। মুক্তচিন্তা, শিল্প, সাহিত্য ও ঐতিহ্যকে তারা বিপন্ন করছে। পাকিস্তানি ও আরবীয় দাসত্ব সংস্কৃতিকে চাপিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বাঙালির স্বাধীন চেতনা হরণ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। জাতির হাজার বছরের ঐতিহ্যকে পদদলিত করে, তারা বাঙালিকে পরিচয়হীন করে তুলতে চায়।
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী প্রজন্ম প্রজন্মগত দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করছে। তারা মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্মের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে সংঘর্ষে ঠেলে দিচ্ছে। রাষ্ট্রগঠনের মূল দর্শন—অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবিক মূল্যবোধ—ধ্বংসের পথে ঠেলে দিচ্ছে। শহীদের রক্তের প্রতি অবমাননা করে, তারা নিজেদেরকে রাজাকারদের উত্তরসূরি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে।
আন্তর্জাতিক স্তরে এরা বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করছে। বিদেশে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। দেশের ভাবমূর্তি কলঙ্কিত করা ও দেশকে উগ্রবাদী রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।
মুক্তিযুদ্ধবিরোধী তরুণ প্রজন্ম সাধারণ সামাজিক সমস্যা নয়; এটি জাতির শরীরে ক্যান্সারের মতো ছড়িয়ে পড়া বিষ। এদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে হবে, সাংস্কৃতিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং প্রয়োজনে আইনের কঠোর হাত প্রয়োগ করতে হবে। এখনই যদি এদের থামানো না যায়, তবে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও শহীদদের রক্তকে কলঙ্কিত করবে।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে সরাসরি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া। তাদের রাজনীতিতে নয়, বরং ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে স্থান দেওয়া উচিত।
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি


