অনলাইন ডেস্ক

মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্যের দিকে নতুন করে আলোকপাত করেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা। বহু বছর ধরে আমাদের গ্যালাক্সি Milky Way–এর কেন্দ্র থেকে ভেসে আসা অদ্ভুত কিছু সংকেত নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছিল। কেউ কেউ এমনও ধারণা করেছিলেন যে, এসব সংকেতের সঙ্গে ভিনগ্রহের প্রাণীর কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে।
তবে নতুন গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই রহস্যময় সংকেতের উৎস হতে পারে মহাবিশ্বের সবচেয়ে দুর্বোধ্য উপাদানগুলোর একটি—Dark Matter বা অদৃশ্য পদার্থ।
যুক্তরাজ্যের King’s College London–এর একদল গবেষক এ বিষয়ে গবেষণা পরিচালনা করেছেন। তাদের গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী The Astrophysical Journal–এ।
দীর্ঘদিনের রহস্যময় সংকেত
গবেষণার প্রধান লেখক Dr. Shyam Balaji বলেন, মহাকাশে বিভিন্ন শক্তিশালী জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা—যেমন তারার বিস্ফোরণ বা সুপারনোভা—এসব সংকেতের সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা দিতে পারে না।
তার মতে, এই সংকেতগুলোর উৎস বোঝার জন্য বিজ্ঞানীদের নতুন তত্ত্ব ও মডেল ব্যবহার করে বিষয়টি পুনরায় বিশ্লেষণ করতে হয়েছে।
কী এই ডার্ক ম্যাটার
ডার্ক ম্যাটার এমন এক ধরনের পদার্থ, যা সরাসরি দেখা যায় না। এটি আলো নির্গত করে না, আবার আলো প্রতিফলনও করে না। ফলে টেলিস্কোপে তা ধরা পড়ে না।
তবুও জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের মোট পদার্থের প্রায় এক-চতুর্থাংশই এই অদৃশ্য উপাদান দিয়ে তৈরি।
‘এক্সসাইটেড ডার্ক ম্যাটার’ তত্ত্ব
গবেষণায় বিজ্ঞানীরা ‘এক্সসাইটেড ডার্ক ম্যাটার’ নামে একটি সম্ভাব্য প্রক্রিয়ার কথা বলেছেন।
এই তত্ত্ব অনুযায়ী, ডার্ক ম্যাটারের কণাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ালে সেগুলোর মধ্যে শক্তি সঞ্চিত হয়। পরবর্তীতে সেই শক্তি Positron (ইলেকট্রনের বিপরীতধর্মী কণা) আকারে নির্গত হতে পারে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই প্রক্রিয়াই মহাকাশে পর্যবেক্ষণ করা তিন ধরনের অস্বাভাবিক সংকেত ব্যাখ্যা করতে পারে। এগুলো হলো—
-
৫১১ কিলোইলেকট্রন ভোল্ট (keV) শক্তির বিকিরণ
-
২ মেগা ইলেকট্রন ভোল্ট গামা রশ্মি
-
গ্যাসের অস্বাভাবিক আয়নাইজেশন
ভবিষ্যৎ পর্যবেক্ষণে মিলতে পারে প্রমাণ
গবেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে নতুন প্রজন্মের পর্যবেক্ষণ প্রকল্প এই তত্ত্ব যাচাই করতে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে Cherenkov Telescope Array Observatory–এর মতো শক্তিশালী টেলিস্কোপ ব্যবহার করে মহাকাশ থেকে আসা উচ্চশক্তির বিকিরণ বিশ্লেষণ করলে এ বিষয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, যদি এই তত্ত্ব ভবিষ্যতে প্রমাণিত হয়, তাহলে মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য ডার্ক ম্যাটার সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান অনেকটাই বিস্তৃত হবে। একই সঙ্গে মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সির কেন্দ্র থেকে আসা বহুদিনের রহস্যময় সংকেতেরও বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে।


