অনলাইন ডেস্ক

দক্ষিণ কোরিয়ার একদল গবেষক মহাবিশ্বের প্রসারণ সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। ইয়োনসি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়াং উক লি নেতৃত্বে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, মহাবিশ্বের প্রসারণের গতি ধীরে ধীরে কমছে। ভবিষ্যতে এটি উল্টো সংকুচিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘মান্থলি নোটিসেস অব দ্য রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটি’-তে। অধ্যাপক লি বলেন, ডার্ক এনার্জি, যা মহাবিশ্বকে প্রসারিত করে বলে মনে করা হয়, তা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ, মহাবিশ্বের দ্রুত প্রসারণের আগের ধারণা ভ্রান্ত হতে পারে।
বিগত কয়েক দশক ধরে বিশ্বাস করা হতো, ১৩.৮ বিলিয়ন বছর আগে বিগ ব্যাং-এর মাধ্যমে জন্ম নেওয়া মহাবিশ্ব ক্রমেই প্রসারিত হচ্ছে এবং এ প্রক্রিয়া চলতেই থাকবে। ১৯৯৮ সালে ডার্ক এনার্জির আবিষ্কারের পর বিজ্ঞানীরা অনুমান করেছিলেন, মহাবিশ্ব আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং একদিন ‘বিগ রিপ’ নামের ভয়াবহ ধ্বংসও ঘটতে পারে।
নতুন গবেষণায় টাইপ-১এ সুপারনোভা বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এ ধরনের তারার বিস্ফোরণের আলো সাধারণত দূরত্ব নির্ধারণে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু দেখা গেছে, এই উজ্জ্বলতা তারার বয়সের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত। বয়স্ক তারার বিস্ফোরণ তুলনামূলকভাবে বেশি উজ্জ্বল হয়। গবেষকরা এটিকে ডার্ক এনার্জির পরিবর্তনশীলতার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মহাবিশ্ব বর্তমানে ধীরগতিতে প্রসারিত হচ্ছে, তবে তাৎক্ষণিক কোনো বিপদের আশঙ্কা নেই। ধারণা করা হচ্ছে, মহাবিশ্বের সম্ভাব্য চূড়ান্ত অবস্থা এখনও প্রায় ১৯.৫ বিলিয়ন বছর দূরে।
গবেষকরা বলছেন, এই নতুন তথ্য আমাদের মহাবিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে ধারণাকে根ভাবে পরিবর্তন করতে পারে। ডার্ক এনার্জির পরিবর্তনশীল প্রকৃতি যদি সত্যিই প্রমাণিত হয়, তাহলে মহাবিশ্বের শেষের চিত্র একেবারেই ভিন্ন হতে পারে।


