অনলাইন ডেস্ক

মহাকাশে ভেসে থাকা গ্রহাণু এখন আর কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়, বরং বিজ্ঞানীদের বাস্তব গবেষণার বিষয়। সম্প্রতি এক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই গ্রহাণু থেকে ভবিষ্যতে মূল্যবান সম্পদ আহরণ করা সম্ভব, তবে তা সহজ হবে না।
স্পেনের ইনস্টিটিউট অব স্পেস সায়েন্সেসের নেতৃত্বাধীন একটি গবেষক দল সি-টাইপ গ্রহাণু, অর্থাৎ কার্বনসমৃদ্ধ গ্রহাণু নিয়ে কাজ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, মহাকাশে থাকা মোট গ্রহাণুর প্রায় ৭৫ শতাংশই এই ধরনের। এসব গ্রহাণুর ভেতরে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ধাতু ও খনিজ, যেমন প্লাটিনাম, সোনা, লোহা এবং পানি। বিশেষ করে পানি মহাকাশযানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারযোগ্য হতে পারে। কিছু গ্রহাণুর খনিজের আর্থিক মূল্য হাজার হাজার কোটি ডলারের সমান হতে পারে।
গবেষকরা আরও বলেন, এসব গ্রহাণু সৌরজগতের প্রারম্ভিক ইতিহাস বহন করে। তাদের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় মহাকাশে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া কিভাবে কাজ করে। বিশেষ করে পানি-সমৃদ্ধ গ্রহাণু থেকে পানি সংগ্রহ তুলনামূলকভাবে বাস্তবসম্মত, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।
তবে এই ক্ষেত্রটি নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। গ্রহাণুতে পৌঁছানো, সেখান থেকে সম্পদ উত্তোলন এবং তা পৃথিবীতে বা মহাকাশে ব্যবহারযোগ্য করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এছাড়া আইনি জটিলতাও আছে। ১৯৬৭ সালের আউটার স্পেস ট্রিটি অনুযায়ী, কোনো দেশ মহাকাশের কোনো বস্তু নিজের বলে দাবি করতে পারবে না।
গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে মান্থলি নোটিসেস অফ দ্য রয়াল অ্যাস্ট্রোনমিকাল সোসাইটি সাময়িকীতে।


