বাসস

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫-এর আওতায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গণভোটকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক রাখতে একটি বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে।
পরিপত্রে নির্বাচনের সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ পরিবেশ নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি ভোটার, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনি অবকাঠামোর সুরক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল বাহিনী ও সংস্থাকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্দেশনা ও ব্যবস্থা:
-
নির্বাচন তারিখ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।
-
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা: নির্বাচনের পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নির্বিঘ্ন ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করা।
-
সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন:
-
ইতোমধ্যেই বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় মোতায়েন।
-
ভোটকেন্দ্র, নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, নির্বাচন অফিস ও নির্বাচনি সামগ্রীর নিরাপত্তা জোরদার করা।
-
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান।
-
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সমন্বিত বাহিনী মোতায়েন ও সিসিটিভি কভারেজ নিশ্চিত।
-
-
ভোটার সুরক্ষা ও সহায়তা:
-
ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, পঙ্গু, অসুস্থ, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা ভোটারদের জন্য সহনীয় ভোট পরিবেশ।
-
-
মাঠপর্যায়ের সমন্বয়:
-
ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটি, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটিসহ সব মাঠকর্মীদের নিরাপত্তা ও সহায়তা।
-
নির্বাচন কমিশনের সমন্বয় সেল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়মিত তদারকি করবে।
-
-
মোবাইল ও স্থায়ী বাহিনী মোতায়েন:
-
তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন-পরবর্তী সাত দিন স্বাভাবিক মোতায়েন।
-
ভোটের দিন আনসার ব্যতীত অন্যান্য বাহিনী পাঁচ দিন, আনসার বাহিনী ছয় দিন মোতায়েন।
-
কেন্দ্রভিত্তিক স্থায়ী মোতায়েন, মোবাইল টহল, স্ট্রাইকিং ফোর্স ও সংরক্ষিত ফোর্স প্রস্তুত রাখা হবে।
-
-
মনিটরিং ও অপতথ্য নিয়ন্ত্রণ:
-
আইনশৃঙ্খলা ও অপতথ্য মনিটরিং সেল তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ভোটের পরবর্তী দুই দিন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
-
পরিপত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে নির্বাচনের সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সকল প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একযোগে কাজ করবে এবং ভোটাররা নিরাপদ ও স্বস্তির সঙ্গে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের এই পরিপত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


