বৃহস্পতিবার, আগস্ট ১৩, ২০২৬

ভারতের বাজার লক্ষ্য করে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ

পাঠক প্রিয়

ভারতের বাজারকে টার্গেট করে বাংলাদেশে বড় ধরনের জাপানি বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা৷ শুধু তাই নয়, ভূ-রাজনৈতিক বিবেচনায়ও এর বিশেষ গুরুত্ব দেখছেন তারা ৷

জাপানের বিনিয়োগ বাংলাদেশে আরো অনেক দেশকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে বলে আশা বিশ্লেষকদের৷ আর এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ২৫ খেকে ২৮ এপ্রিল জাপান সফরের কথা রয়েছে৷

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর বলছে, গত মাসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদার ভারত সফরের সময় বাংলাদেশ ও ভারতকে কেন্দ্র করে তিনি এই বিনিয়োগ প্রস্তাব দেন৷ এরপর বাংলাদেশে ১২৭ কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন করে জাপান সরকার৷

জাপানের বিনিয়োগ পরিকল্পনার মধ্যে  বাংলাদেশে একটি শিল্পাঞ্চল তৈরি৷ তারা শিল্প স্থাপন ও বন্দর তৈরিতে বিনিয়োগ করবে৷ শিল্পাঞ্চলে উৎপাদিত পণ্য তারা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, নেপাল ও ভুটানে বাজারজাত করতে চায়৷ এজন্য তারা যোগাযোগ অবকাঠামোও গড়ে তুলতে চায়৷ জাপান ১৩০ কোটি মানুষের আবাসস্থল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং বঙ্গোপসাগর এলাকায় উন্নয়নে নজর দেবে৷

বাংলাদেশের  তিনটি অবকাঠামো প্রকল্পে  বিনিয়োগ করবে জাপান, যার মধ্যে আছে মাতারবাড়ি এলাকায় নতুন একটি বাণিজ্যিক বন্দর৷ এই বন্দরের সঙ্গে ত্রিপুরাসহ ভারতের স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্বাঞ্চল সংযুক্ত হবে৷ তবে এই বন্দরের মাধ্যমে তারা  বৃহত্তর আন্তর্জাতিক বাজারও ধরতে চায়৷

ভারতে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোশি সুজুকি ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলায় এক বৈঠকে বাংলাদেশ, ভারত ও জাপানের মধ্যে এই প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেন৷ ত্রিপুরায় দুই দিনের এ বৈঠক আয়োজন করেছিল গবেষণা প্রতিষ্ঠান এশিয়ান কনফ্লুয়েন্স৷

হিরোশি সুজুকি জানিয়েছেন, গভীর সমুদ্রবন্দরের কাজ  ২০২৭ সালের মধ্যে হতে পারে৷ এই বন্দর শিল্পাঞ্চল নির্মাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে৷

তিনি জানান, বাংলাদেশে ইতিমধ্যে তিন শতাধিক জাপানি কোম্পানি কাজ শুরু করেছে৷ দুই দেশের মধ্যে শিগগিরই অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি হতে পারে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে শিল্প উৎপাদন বাড়বে এবং আরো বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে৷

বৈঠকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলবিষয়ক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জি কিশান রেড্ডি জাপানের প্রস্তাবকে স্বাগত জানান৷ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেন, এর মধ্য দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে এবং জাপানসহ অন্যান্য দেশের বিনিয়োগ আসার পথ সুগম হবে৷

এশিয়ান কনফ্লুয়েন্সের প্রধান সব্যসাচী দত্ত বলেন, মাতারবাড়ি বন্দর থেকে ত্রিপুরার দূরত্ব মাত্র ১০০ কিলোমিটার৷ ফলে মাতারবাড়ি বন্দর ত্রিপুরাসহ ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রপ্তানিকারকদের প্রবেশদ্বার হতে পারে৷

চীন তার আলোচিত বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের আওতায় শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যে প্রভাব বিস্তার করে চলেছে জাপান ও ভারত তার বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফ্রিকা অঞ্চলে অবকাঠামো নির্মাণ করছে৷

জাপান-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রির সাধারণ সম্পাদক মো. আনোয়ার শহীদ বলেন, ‘‘বাংলাদেশে একটি ট্রেড হাব গড়ে তোলার জন্য অনেক আগে থেকেই আলোচনা হচ্ছে৷ এর আগে যখন প্রধানমন্ত্রী জাপান সফর করেন, তখনও এটা নিয়ে আলোচনা হয়৷ এখন যে প্রস্তাব এসেছে এটা একটা গেম চেঞ্জার হিসেবে আবির্ভূত হবে৷ এটা আমাদের অর্থনীতিতে দারুণ প্রভাব ফেলবে৷ ভারতের সেভেন সিস্টার্স-এর সুবিধাটা আমরা অনেক  দিন ধরে নিতে পারি নাই৷ এটা আমাদের সুযোগ করে দেবে৷ মাতারবাড়ির ডিপ সি পোর্ট একটা বড় হাব হবে৷”

তার কথা, ‘‘এখানে জাপানি শিল্প এবং এসএমই হবে৷ তাতে আমরা আরো লাভবান হবো৷ কর্মসংস্থানও হবে৷ আড়াই হাজারে তাদের যে একটি শিল্পঞ্চল হচ্ছে সেটা একটা ইউনিক মডেল হবে৷”

আর সিপিডির গবেষণা পরিচালক অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘‘উত্তর-পূর্ব ভারত , নেপাল বা ভুটানের বাজার যে খুব বড়, তা কিন্তু নয়৷ তারচেয়ে বড় ব্যাপার হলো  বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ৷ এটা বিশ্বের আরো অনেক দেশকে এখানে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে৷ আর বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্যের তখন বাজার হতে পারে থাইল্যান্ড ও মিয়ানমারসহ আরো অনেক দেশ৷ এছাড়া ইউরোপেও বাজার বিস্তৃত হতে পারে৷ ভারতের মূল বাজারও টার্গেট হতে পারে৷”

তিনি বলেন, ‘‘সাধারণত জাপানিরা দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ  করে৷ তারা যে শুধু টেকনোলজি নিয়ে আসে তা নয়, তারা টেকনিক্যাল নোহাও দিয়ে এখানকার স্থানীয় শ্রমিকদেরও দক্ষ করে তুলবে৷”

এটি ভূ-রাজনীতির দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) মো. শহীদুল হক৷ তিনি বলেন, ‘‘জাপানি বিনিয়োগ এখানে চীনা বিনিয়োগের সাথে একটা ভারসাম্য তৈরি করবে, যেটা বৈদেশিক সম্পর্কের ভারসাম্যের ক্ষেত্রেও কাজে লাগবে৷”

‘‘তবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে শুধু ডিপ সি পোর্ট নয়, তারা যেন এখানে শিল্পও গড়ে তোলে,” বলেন এই কূটনীতিক৷

— DW.com

সর্বশেষ সংবাদ

‘সার্ভিস’ শব্দের বিবর্তন ঘটেছে, কিন্তু কী মানুষের মুক্তি ঘটেছে?

সুফি সাগর সামস্ ভাষা, ক্ষমতা ও মানবমর্যাদা নিয়ে একটি পুনর্বিবেচনা সভ্যতার ইতিহাসে শব্দ কখনো কেবল শব্দ নয়; তারা একটি যুগের সামাজিক...

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ, জরুরি সংবাদ সম্মেলন আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা, শুক্রবার: রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। ইতোমধ্যে তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন জাতীয় সংসদের...

মানবমস্তিষ্ক: মহাবিশ্বের ভেতর আরেক মহাবিশ্ব

সুফি সাগর সামস্ মহাবিশ্বের সবচেয়ে বিস্ময়কর সৃষ্টি কি কোনো নক্ষত্র, গ্যালাক্সি বা কৃষ্ণগহ্বর? হয়তো নয়। হয়তো সবচেয়ে বিস্ময়কর কাঠামো হলো মানবমস্তিষ্ক—কারণ এই ক্ষুদ্র জৈবিক অঙ্গই সমগ্র মহাবিশ্বকে...

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হারিয়ে গেলে স্বাধীনতার মূল্যবোধও হারাবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা নতুন প্রজন্মের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রাখা না গেলে একসময় স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্যবোধও হারিয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ...

এমপিওভুক্ত শিক্ষক, দ্বৈত নাগরিক ও ঋণখেলাপিরা স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না : ইসি

নিজস্ব প্রতিবেদক: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের লক্ষ্যে একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে...

জনপ্রিয় সংবাদ