ইব্রাহিম খলিল বাদল

২০১০ সালের বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিদেশি ও স্থানীয় বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদকদের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ভারতের আদানি গ্রুপের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি বিশেষভাবে বিতর্কিত ও ক্ষতিকর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আর্থিক প্রভাব
-
প্রতি বছর এই চুক্তির কারণে বাংলাদেশকে প্রায় ৪০০–৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত দিতে হচ্ছে, যা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা।
-
২০১৫ সালে পিডিবির (পাবলিক পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড) লোকসান ছিল প্রায় ৫,৫০০ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়ায় ৫০,০০০ কোটি টাকার বেশি।
-
বিদ্যুৎ ক্রয়ে খরচ প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় ১২.৩৫ টাকা, কিন্তু বিক্রয় হয় ৬.৬৩ টাকা, ফলে বিরাট লোকসান।
চুক্তির ঘাটতি ও দুর্নীতির প্রমাণ
-
চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে ৭,৭০০–৯,৫০০ মেগাওয়াট ব্যবহার হয়নি, মূলত জ্বালানি ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে।
-
এইচএফও ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৪০–৫০%, গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্র থেকে ৪৫%, এবং সৌর বিদ্যুৎ থেকে ৭০–৮০% বেশি খরচ হচ্ছে।
-
চুক্তিতে রাজনৈতিক আশীর্বাদ ও সীমিত গোষ্ঠীর স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
-
চুক্তির সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তির কয়েক মিলিয়ন ডলারের অবৈধ সুবিধা নেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব
-
আদানি চুক্তির ক্ষেত্রে নির্দেশনা মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয় থেকে আসত।
-
জাতীয় কমিটি জানিয়েছে, চুক্তির বিষয়ক সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার করতে পারবে না, নির্বাচিত সরকারই উদ্যোগী হবে।
-
চুক্তি বাতিল করতে চাইলে সিঙ্গাপুরের সালিশি আদালতে মামলা করা যেতে পারে।
৫. প্রস্তাবিত সমাধান ও সুপারিশ
-
সব বিদ্যুৎ চুক্তি, সংশোধনী ও পরিশোধ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা।
-
প্রতিযোগিতামূলক প্রকিউরমেন্ট পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও কার্যকর ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
-
স্বাধীন জ্বালানি তদারকি প্রতিষ্ঠান গঠন।
-
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে চুক্তি বাতিল করা।
-
অতিরিক্ত ও অকার্যকর সক্ষমতার বার্ষিক আর্থিক ব্যয় (প্রায় ৯০০ মিলিয়ন–১.৫ বিলিয়ন ডলার) হ্রাস করতে পদক্ষেপ নেওয়া।
জাতীয় কমিটির রিপোর্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, আদানি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তিটি দেশের বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে “খারাপ” চুক্তি এবং এটি সরকারের অর্থনীতি ও জাতীয় স্বার্থের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ। নির্বাচনকৃত সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
ইব্রাহিম খলিল বাদল
সাংগঠনিক সম্পাদক
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


