অনলাইন ডেস্ক

ত্বকের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার নতুন কিছু নয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নানা প্রাকৃতিক উপাদান ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা কমাতে কাজে লাগানো হচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ফিটকিরি। পুরানো কালের ব্যবহার অনুযায়ী, দাড়ি কাটার পর সংক্রমণ এড়াতে ফিটকিরি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এর উপকারিতা কেবল এটিতে সীমাবদ্ধ নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে ফিটকিরি ত্বকের অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণ এবং ব্রণের সমস্যা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ব্রণ ও জীবাণু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর
ফিটকিরির অ্যান্টিসেপটিক ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল গুণ ত্বকের জীবাণু ধ্বংসে সাহায্য করে। ব্রণ বা ফুসকুড়ির ওপর ফিটকিরি গুঁড়ো সামান্য পানির সঙ্গে মিশিয়ে লাগালে প্রদাহ কমে এবং ব্রণ দ্রুত শুকাতে পারে। এছাড়া, তেলতেলে ত্বকে এটি অতিরিক্ত তেল শোষণ করে ত্বক পরিষ্কার ও সতেজ রাখতেও সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে
ফিটকিরি প্রাকৃতিক টোনারের মতো কাজ করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের লোমকূপ সংকুচিত হতে পারে, ফলে ত্বক টানটান ও স্বাস্থ্যবান দেখায়। শেভিং বা ওয়াক্সিংয়ের পর ফিটকিরি ব্যবহারে জ্বালা ও লালচেভাব কমানো সম্ভব। ছোটখাটো কাটাছেঁড়ার ক্ষেত্রে এটি রক্তপাত বন্ধ ও সংক্রমণ কমাতে সহায়ক।
কীভাবে ব্যবহার করবেন
-
একটি টুকরো পরিষ্কার ফিটকিরি সামান্য পানিতে ভিজিয়ে নিন।
-
ভেজা ফিটকিরি বা সেই পানি মুখ বা প্রয়োজনীয় স্থানে হালকা করে লাগানো যেতে পারে।
-
চাইলে ফিটকিরি গুঁড়ো করে গোলাপজলের সঙ্গে মিশিয়ে ফেস প্যাক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। তবে সপ্তাহে এক থেকে দুইবারের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো।
সতর্কতা
ফিটকিরি ত্বক শুষ্ক করে দিতে পারে। তাই শুষ্ক ও সংবেদনশীল ত্বকে অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রথমবার ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। চোখের আশপাশে বা খোলা ক্ষতে ব্যবহার করা নিরাপদ নয়।
ত্বকের সমস্যা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বা ব্যবহার শেষে জ্বালা, র্যাশ বা চুলকানি দেখা দিলে ঘরোয়া উপায় বাদ দিয়ে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
ফিটকিরি, সঠিকভাবে ব্যবহার করলে, প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের যত্নে সহায়ক। তবে সবার জন্য তা সমান কার্যকর নাও হতে পারে, তাই সাবধানতার সঙ্গে ব্যবহার করা প্রয়োজন।


