ইসতিয়াক মাহমুদ মানিক

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। সমগ্র জাতি বাকরুদ্ধ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর তারেক রহমানের আগমনে যেমন দেশের মানুষ উদ্বেলিত হয়েছিল, তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার অনন্তের পথে চলে যাওয়ায় সমগ্র জাতি আজ শোকাহত তাদের অভিভাবককে হারিয়ে। কিভাবে সহ্য করবেন এই শোক তারেক রহমান এবং তার পরিবারের সদস্যরা তা আমরা জানিনা। মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি, তারা যেন এই অসহনীয় শোক সইবার শক্তিদান করেন এবং বেগম খালেদা জিয়াকে জান্নাতের মেহমান হিসেবে কবুল করে নেন।
বাংলাদেশের রাজনীতির একটি অধ্যায়ের অবসান হলো আজ মঙ্গলবার সকালে। বেগম খালেদা জিয়া চলে গেলেন অনন্তের পথে। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনি শুধুমাত্র তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের এক আপোসহীন নেত্রী, দেশের অগ্রযাত্রার একজন সাহসী নির্মাতা এবং নিপীড়িত মানুষের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। বেগম জিয়া ছিলেন বাংলাদেশি জাতীয়তার এক অমোঘ প্রতীক, একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক, যিনি দলমত নির্বিশেষে মানুষের হৃদয়ে নিজের স্থান করে নিয়েছিলেন।
বেগম জিয়ার চলে যাওয়ায় দেশের রাজনীতিতে এক অপূরণীয় শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। তরুণ প্রজন্ম হারালো একজন পথপ্রদর্শক, নারী ও শিশু হারালেন অনুপ্রেরণার প্রতীক, এবং নিপীড়িত মানুষ হারালেন তাদের সংগ্রামের সাহস। তবে ইতিহাসের বাঁকে তিনি অমর। ৩০ ডিসেম্বর শীতের সকালে তার দৈহিক প্রস্থান হলেও, তার আদর্শ ও কর্ম আজীবন বেঁচে থাকবে। বাংলাদেশ যতদিন থাকবে, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন আমাদের হৃদয়ে অনুপ্রেরণার আলোকবর্তিকা হয়ে থাকবে।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুধু নেতৃত্বের প্রদর্শনী নয়, বরং দেশের মানুষের কল্যাণের অঙ্গীকারের প্রতীক। স্বাধীনতার পর তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে কঠোর সময়ে নিখুঁত দৃঢ়তার সঙ্গে জীবনযাপন করেছেন, স্বামীর আদর্শকে বাঁচিয়েছেন এবং জনগণের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। বেগম জিয়া নারী ও শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করার একজন অদম্য নেতা ছিলেন। নারীদের জন্য শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, শিশুদের জন্য আইন প্রণয়ন—সবকিছুই তার মানবিক নেতৃত্বের প্রমাণ।
বেগম জিয়ার নেতৃত্ব কেবল নারীদের জন্য নয়, কৃষক, শিল্পকর্মী এবং সাধারণ মানুষের জন্যও সমানভাবে মূল্যবান। তিনি কৃষকবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন করেছেন, কৃষি ঋণ প্রবর্তন করেছেন, শিল্পায়নকে উৎসাহিত করেছেন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথ সুগম করেছেন।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে তিনি বাংলাদেশকে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছেন। কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়, সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব—এই নীতির কারণে তিনি দেশকে সম্মানজনক অবস্থানে রাখার পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে সমাদৃত হয়েছেন।
রাজনীতিতে বেগম জিয়ার অনুকরণীয় দিক ছিল তার নৈতিকতা ও শালীনতা। তিনি কখনো প্রতিপক্ষকে কদর্য ভাষায় আক্রমণ করেননি। রাজনৈতিক শালীনতার মানসিকতা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য এক উদাহরণ হয়ে আছে।
বেগম জিয়ার জীবন ও কর্ম আজকের প্রজন্ম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। তিনি যে ধৈর্য, সাহস এবং নিষ্ঠার পরিচয় দিয়ে গেছেন, তা থেকে শিক্ষা নিয়ে মানুষ দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের সংগ্রামে এগিয়ে যাবে। তার আদর্শ, ত্যাগ ও অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসের অম্লান অংশ হয়ে থাকবে।


