সাংস্কৃতিক প্রতিবেদক

বিজয়ের ৫৪তম বার্ষিকী উপলক্ষে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির ব্যবস্থাপনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ‘বিজয় উৎসব’। এই উৎসবে স্মরণ করা হচ্ছে স্বাধীনতার জন্য রক্তদান করা লাখো বীর সেনাদের ত্যাগ ও সাহসকে।
উৎসবের অনুষ্ঠানমালা স্বাধীনতার সংগ্রাম, দৃঢ়তা, মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারের মূল সুরকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে। উৎসবের প্রথম দিন সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় শুরু হয়, যা শিল্পকলা একাডেমির বড় ও শিশুদের অ্যাক্রোব্যাটিক দলের মনোজ্ঞ পরিবেশনায় রঙিন হয়ে ওঠে।
শুরুতে সিনিয়র অ্যাক্রোব্যাটিক দলের ‘জলি সিমেন্স’ পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এরপর শিশুদের ‘ব্ল্যাংকেট ব্যালেন্স’ ও জুনিয়র দলের ‘ক্যাপ ড্যান্স’ এবং ‘ল্যাডার ব্যালেন্স’ পরিবেশনা হেমন্তের সন্ধ্যায় ভিন্ন এক আবহ তৈরি করে। পরবর্তী পর্যায়ে পরিবেশিত হয় কুংফু আর্ট, রিং ড্যান্স, নেক আয়রন বার এবং হাইসাইকেল শিরোনামের অ্যাক্রোব্যাটিক।
প্রদর্শিত অ্যাক্রোব্যাটিক পরিবেশনার মধ্যে বড়দের ব্যারেল ব্যালেন্স ও চেয়ার সিটিং, ছোটদের রোপ স্ক্রুস, রোলার ব্যালেন্স ও রোপ জাম্প এবং শিশুদের মাউথ স্কিল বিশেষভাবে দর্শকদের মুগ্ধ করে। শেষ পর্যায়ে বড় ও ছোটদের সম্মিলিত পরিবেশনা—হাড়ি ও লাঠি, রোপ রাউন্ড, দিয়াবো ব্যালেন্স, পাইপ ব্যালেন্স, রিং ড্যান্স এবং মার্শাল আর্ট (নুনথু)—সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে সংস্কৃতির আলোয় আলোকিত করে।
অ্যাক্রোব্যাটিক প্রদর্শনার পর একই মঞ্চে ছিল শিল্পকলা একাডেমি রেপার্টরি যাত্রা ইউনিটের জীবনীভিত্তিক যাত্রাপালা ‘জেনারেল ওসমানী’। পালাকার ঋজু লক্ষ্মী অবরোধের এই যাত্রাপালার পরিচালনায় ছিলেন শামীম খন্দকার। এতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের এক লুকায়িত অথচ গুরুত্বপূর্ণ সত্য নতুন করে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়।
দুই দিনব্যাপী উৎসবের সমাপ্তি হবে মঙ্গলবার ‘বিজয় দিবস কনসার্ট’-এর মাধ্যমে। শেষ দিনের আয়োজনের অংশ হিসেবে দর্শকরা উপভোগ করবেন দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ও শিল্পীদের সুরম্য পরিবেশনা। এতে অংশ নেবেন সায়ান, শিরোনামহীন, লালন, বাংলা ফাইভ, টংয়ের গান, আফটার ম্যাথ, ফারিয়া ইলা লালালা, ফিরোজ জং এবং এফ মাইনর। পাশাপাশি দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে পরিবেশিত হবে স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের কালজয়ী সংগীত।
বিজয় উৎসবের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সংগ্রামের ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার একসাথে উদযাপন করা হচ্ছে, যা দেশের মানুষের মনে স্বাধীনতার অনুভূতি আরও জাগ্রত করবে।


