অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা, ২৮ জানুয়ারি: কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশে ৯টি নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে আপাতত পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রথম ধাপে ফাঁস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং বন্ধের পথে যাচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিনের অনিয়ম, উচ্চ খেলাপি ঋণ ও আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানিকে (বিআইএফসি) আর্থিক সূচক উন্নয়নের জন্য তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে তাদেরও অবসায়নের আওতায় আনা হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা জানান, শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের কর্মপরিকল্পনা ও যুক্তি উপস্থাপন করেছে। বোর্ড এই ভিত্তিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানের পুনরুদ্ধারের সুযোগ দেয়।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, আগের সরকারের সময়ের অনিয়ম ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বিশেষ করে সাবেক এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ব্যবস্থাপনা পরিচালক পি কে হালদারের বিরুদ্ধে চারটি এনবিএফআই থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে।
গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, বন্ধপ্রায় ৯টি প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত আমানতকারীরা আগামী ফেব্রুয়ারি, রমজানের আগেই তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। সম্পদ মূল্যায়নের পর শেয়ারহোল্ডারদের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তা বলেন, সরকার মৌখিকভাবে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অনুমোদন দিয়েছে। তবে আমানতকারীরা শুধুমাত্র মূল অর্থ পাবেন, কোনো সুদ দেওয়া হবে না।


