শনিবার, মে ২, ২০২৬

ফ্যাসিবাদী আমলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দলীয় বাহিনী করা হয়েছিল : রাষ্ট্রপতি

পাঠক প্রিয়

অনলাইন ডেস্ক

বিতাড়িত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দলীয় বাহিনী হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি Mohammad Shahabuddin। তিনি বলেন, সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে পুলিশকে একটি পেশাদার, আধুনিক ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বর্তমান সরকার।

বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংসদের স্পিকার Hafiz Uddin Ahmed। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি এ ভাষণ দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পুলিশ বাহিনীর সার্বিক সংস্কারের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠন করেছে। কমিশনের সুপারিশের আলোকে পুলিশকে আরও পেশাদার ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি জানান, সেবাবান্ধব পুলিশ গঠন, সদস্যদের নৈতিক মনোবল পুনর্গঠন, অনলাইন অভিযোগ দায়েরের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ পুনঃনিরীক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির ভাষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পুলিশ বাহিনীতে ৭৯১ জনকে সাব-ইন্সপেক্টর এবং ৮ হাজার ১১ জনকে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই বছরে কনস্টেবল থেকে সাব-ইন্সপেক্টর পর্যন্ত বিভিন্ন পদে মোট ৩ হাজার ৫৬০ জন সদস্যকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও শক্তিশালী করতে ভবিষ্যতে পুলিশে অতিরিক্ত ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর এবং ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলেও জানান রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে নিয়োগ চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, কারাগার ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে দেশে পাঁচটি নতুন কারাগার চালু করা হয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, ‘১৬১৯১’ কল সেন্টার এবং ডিজিটাল বন্দি ব্যবস্থাপনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রতিটি নাগরিক যাতে ঘরে-বাইরে শান্তি ও নিরাপত্তা অনুভব করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, সারাদেশে আইন-শৃঙ্খলা অবনতির অন্যতম কারণ হিসেবে অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিস্তারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ, ধারালো অস্ত্র ও হাতবোমা উদ্ধারে এবং অপরাধীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিত অভিযান পরিচালনার কথাও ভাষণে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপতি।

রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম প্রতিরোধে নৌবাহিনীর কন্টিনজেন্ট এবং কোস্ট গার্ডও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

 

 

সর্বশেষ সংবাদ

ময়মনসিংহ ও সিলেটে ৬০ কিমি বেগে ঝড় হতে পারে

অনলাইন ডেস্ক দেশের দুই অঞ্চলে সন্ধ্যার মধ্যে ঝড়ো আবহাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য এই দুর্যোগে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০...

ডিএমপিতে পাঁচ পরিদর্শক বদলি

অনলাইন ডেস্ক ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পাঁচজন পরিদর্শককে বদলি করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদরদপ্তর ও প্রশাসন) মো. আমীর খসরুর স্বাক্ষরিত এক আদেশে...

যুদ্ধবিরতির মাঝেই ইরানকে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা দিচ্ছে চীন—মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য

অনলাইন ডেস্ক ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই তেহরানকে নতুন করে উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন—এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন...

হামের প্রাদুর্ভাব: ২৪ ঘণ্টায় আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মোট মৃত ১৬৯

অনলাইন ডেস্ক দেশে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে গত ১৫...

কাতারে ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড়তে রাজি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কাতারসহ বিভিন্ন দেশে আটকে থাকা ইরানের জব্দকৃত অর্থ ছাড়তে সম্মত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। যদিও...

জনপ্রিয় সংবাদ