অনলাইন ডেস্ক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন পে-স্কেল বা বেতন কাঠামো নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। এ সংক্রান্ত সুপারিশ পর্যালোচনার কাজ সচিব কমিটি পুনরায় শুরু করবে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
বৈঠকে কারা ছিলেন
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন—
- অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
- মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি
- অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার
সহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কী বললেন তিতুমীর
ড. তিতুমীর জানান, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া নিয়ম অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হবে। পে কমিশনের প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সচিব কমিটি সেটি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করে সুপারিশ দেবে, এবং সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পে কমিশনের সুপারিশ কী ছিল
এর আগে সাবেক অর্থ সচিব জাকির আহমেদ খান-এর নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫ সালে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী—
- বেতন বৃদ্ধি: ১০০% থেকে ১৪০% পর্যন্ত
- সর্বনিম্ন বেতন: ৮,২৫০ টাকা → ২০,০০০ টাকা
- সর্বোচ্চ বেতন: ৭৮,০০০ টাকা → ১,৬০,০০০ টাকা
বাস্তবায়নে ব্যয় কত
কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, এই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। বর্তমানে প্রায়—
- ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী
- ৯ লাখ পেনশনভোগী
এর জন্য সরকারের মোট ব্যয় প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
কেন বিলম্ব হয়েছিল
বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার আগে বিভিন্ন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠনের প্রেক্ষাপটে দিকনির্দেশনার অভাবে কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল।
এখন কী হচ্ছে
সর্বশেষ বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সচিব কমিটি তাদের কার্যক্রম পুনরায় শুরু করবে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া আবারও গতি পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।


