বাসস

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে প্রথমবার চালু হওয়া পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। দেশে ও দেশের বাইরে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮২ জন ভোটার পোস্টাল ভোট দেওয়ার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন। সরকার এটিকে নির্বাচন ব্যবস্থায় একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে দেখছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালটের অনলাইন নিবন্ধন সোমবার শেষ হয়েছে। প্রথমবারের মতো চালু হওয়া এই ব্যবস্থায় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সাড়া পাওয়া গেছে, যা নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থার প্রতিফলন।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য তুলে ধরে শফিকুল আলম জানান, নিবন্ধনকারীদের মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে রয়েছেন ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪০ জন ভোটার। এদের বেশিরভাগই নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন অথবা ভোটের দিন নিজ নিজ এলাকায় উপস্থিত থাকতে পারবেন না। অন্যদিকে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভোটারের সংখ্যা ৭ লাখ ৭২ হাজার ৫৪২ জন।
প্রেস সচিব বলেন, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, প্রবাসী ভোটারদের গড় অংশগ্রহণের হার প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশ প্রথম বছরেই ৫ শতাংশের বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পেরেছে, যা নির্বাচন কমিশন ও সরকারের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের পোস্টাল ব্যালট মডেলটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইউএনডিপি ছাড়াও ইউরোপের একাধিক দেশ এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করছে। সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশের এই উদ্যোগের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। প্রবাসী জনসংখ্যা বেশি—এমন দেশগুলো বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিখতে আগ্রহ প্রকাশ করছে বলেও জানান তিনি।
নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার পর থেকেই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ শুরু হবে। এবারের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রবাসী ভোটারদের অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রেস সচিব।
শফিকুল আলম বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের প্রবাসী জনসংখ্যা প্রায় দেড় কোটির কাছাকাছি। তাদের সবাইকে ভোটের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েই সরকার এগোচ্ছে। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল হলেও অতীতে তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। প্রথমবারের মতো সেই ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই প্রধান উপদেষ্টা প্রবাসী ভোটাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি।


