অনলাইন ডেস্ক

পোশাক খাত এখন আইসিইউতে আছে, পাটের পর এখন পোশাক শিল্পও ধ্বংসের মুখে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।
মূল সমস্যা:
-
উচ্চ কাঁচামালের মূল্য:
-
স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে সুতা কেনার খরচ আমদানির তুলনায় প্রতি কেজিতে ৪৬ টাকা বেশি।
-
আন্তর্জাতিক মানের ও প্রতিযোগিতামূলক দামে উৎপাদন না হওয়ায় ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যাচ্ছে।
-
-
রফতানি কমছে:
-
চলতি অর্থ-বছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে পোশাক রফতানি গত বছরের তুলনায় ২.৬৩% কমেছে।
-
বিশেষ করে ডিসেম্বর মাসে রফতানি কমেছে ১৪.২৩%।
-
-
শুল্ক আরোপ:
-
সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ শিল্পের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হচ্ছে। এটি কৃত্রিমভাবে বাজারকে সীমিত করছে এবং স্থানীয় শিল্পের প্রতিযোগিতা হ্রাস করছে।
-
শিল্প নেতাদের বক্তব্য:
-
মোহাম্মদ হাতেম: পোশাক খাত বর্তমানে “আইসিইউতে” আছে। পাট শিল্পের পর এখন পোশাক শিল্পও ধ্বংসের পথে।
-
ফয়সাল সামাদ: আমদানির বাজার উন্মুক্ত করা প্রয়োজন, যেখানে কাঁচামালের দাম সস্তা পাওয়া যায়।
-
সেলিম রহমান: দেশীয় স্পিনিং মিল আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতামূলক দাম দিতে পারলে, বেশি দাম দিয়ে হলেও ক্রয় করা সম্ভব।
প্রধান দাবিসমূহ:
-
সুতা আমদানিতে আরোপিত শুল্ক অবিলম্বে প্রত্যাহার।
-
সরাসরি নগদ সহায়তা বা বিশেষ প্রণোদনার মাধ্যমে বস্ত্রখাতকে সুরক্ষা।
-
গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা।
-
জ্বালানির মূল্য যৌক্তিক করা।
-
রফতানিমুখী সুতা উৎপাদনকারীদের কর্পোরেট ট্যাক্সে ছাড় ও স্বল্প সুদে ঋণ সহজলভ্য করা।
-
স্পিনিং মিলগুলোর উৎপাদন খরচ কমানোর উদ্যোগ গ্রহণ।
দেশের মোট রফতানি আয়ের ৮২% আসে গার্মেন্টস খাত থেকে, যার মধ্যে নিট পোশাকের অবদান ৫৫%। ফলে পোশাক খাতের সংকট দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে। শিল্প নেতারা চরম পরিস্থিতি এড়াতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন, যেখানে মূলত শুল্ক প্রত্যাহার, কাঁচামাল সরবরাহ সহজতর ও উৎপাদন খরচ কমানো জোরদার করা প্রয়োজন।


