অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীতে পে-স্কেলের গেজেট জারির দাবিতে আন্দোলনরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিছিলে জলকামান নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শাহবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে সকালে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন সরকারি চাকরিজীবীরা। এতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতিসহ বিভিন্ন সরকারি, আধা সরকারি এবং পে-স্কেলের আওতাভুক্ত দপ্তর ও অফিসের কর্মচারীরা অংশ নেন।
সমাবেশে আন্দোলনকারী নেতারা অভিযোগ করেন, তাদের দাবির বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় সারা দেশে একযোগে কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের মুখ্য সমন্বয়ক ওয়ারেছ আলী বলেন, কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণভাবে এবং কর্মচারী শৃঙ্খলাবিধির মধ্য থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, সরকার ৩১ জানুয়ারির মধ্যে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের গেজেট প্রকাশ করবে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় কর্মসূচি আরও জোরদার করা হয়েছে।
সমাবেশ শেষে আন্দোলনকারীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন অভিমুখে মিছিল শুরু করলে শাহবাগ এলাকায় পুলিশ তাদের ওপর জলকামান নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। সমাবেশে বক্তারা বলেন, যেখানেই বাধা আসবে সেখানেই অবস্থান নিয়ে কর্মসূচি পালন করা হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের আগেই গেজেট জারির দাবি জানান তারা।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ওয়ারেছ আলী বলেন, প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এখন পর্যন্ত সরকারের কোনো দপ্তর থেকে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
গত ৩০ জানুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া ১ থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন নিজ নিজ দপ্তরের সামনে সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সরকারি কর্মচারীরা।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে বৃহস্পতিবার সারাদেশে সরকারি, আধা সরকারি এবং পে-স্কেলের আওতাভুক্ত দপ্তরগুলোতে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চার ঘণ্টার কর্মবিরতিও পালন করা হয়।
এদিকে, পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। শহীদ মিনারে উপস্থিত হয়ে তারা অধিকার আদায়ের আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান। প্রাথমিক শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি কর্মচারীরা সমাবেশে যোগ দিয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।


