
ঢাকা, নভেম্বর ২০২৫: বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর যেমন বাহিনীর নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি পোশাকেও পরিবর্তন আনা হয়েছিল, তেমনি চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর তুমুল আলোচনার জন্ম দিয়েছে পুলিশের নতুন পোশাক ও মনোগ্রাম। নতুন ইউনিফর্ম চালুর পর থেকেই এর নকশা, রঙ নির্বাচন, আর্থিক ব্যয় এবং কার্যকারিতা–সবকিছু নিয়ে মাঠপর্যায় থেকে সোশ্যাল মিডিয়া পর্যন্ত সমালোচনার ঝড় বইছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন পোশাক পরিধান করলেও পুলিশের আচরণে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সেবা-মনোভাব, পেশাদারিত্ব, জবাবদিহি ও মানবিক আচরণ–এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় বহু নাগরিক প্রশ্ন তুলছেন, “পোশাক বদলানো হলো কার স্বার্থে?”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা জানান, পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্তটি “হঠাৎ ও ব্যয়বহুল” হওয়ায় মাঠপর্যায়ের অনেকেই এর প্রয়োজনীয়তা বুঝতে পারছেন না। কয়েকজনের মতে, নতুন ইউনিফর্মের মান ও নকশা আন্তর্জাতিক ধাঁচের হলেও এর সঙ্গে পুলিশের বাস্তব কর্মপরিবেশের সামঞ্জস্য কম দেখা যাচ্ছে।
এদিকে জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সূত্র জানায়, পুলিশের পোশাক পরিবর্তন বিষয়ে উত্থাপিত প্রশ্নগুলো কমিশন পর্যালোচনা করলেও বিজিবির নাম বা পোশাক পরিবর্তনের কোনো সুপারিশ কমিশন করবে না। কমিশনের একজন সদস্য বলেন, “বিজিবির নাম ও কাঠামো একটি ঐতিহাসিক ও বাস্তবসম্মত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে স্থিতিশীল হয়েছে। সেখানে পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন কমিশন দেখছে না।”
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, বাহিনীর বাহ্যিক রূপ বদল নয়, বরং কাঠামোগত সংস্কার, পেশাদার প্রশিক্ষণ ও কঠোর জবাবদিহি প্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে জরুরি। তাদের বক্তব্য—“পোশাক পাল্টালে মনোভাব পাল্টায় না; প্রয়োজন ব্যবস্থার গভীর সংস্কার।”
পোশাক পরিবর্তন নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাঠামোগত অসঙ্গতি দূর করা এবং সর্বস্তরে জনআস্থা পুনর্গঠনই মূল চ্যালেঞ্জ। নতুন পোশাক কতটা সে পথ সহজ করবে, তা নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়ে গেছে।


