মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে বয়স যে কোনো বাধা নয়—এমনই এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ১০৩ বছর বয়সী বৃদ্ধা চাঁন বানু। গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচন ও গণভোটে তিনি লৌহজং উপজেলা-এর একটি ভোটকেন্দ্রে পালকিতে চড়ে এসে ভোট দেন। ঘটনাটি শুধু স্থানীয়ভাবেই নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব শিমুলিয়া গ্রামের একটি ভোট কেন্দ্রে দুপুরের দিকে এ দৃশ্য দেখা যায়। বার্ধক্যের কারণে হাঁটতে অক্ষম হলেও নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ ছিলেন চাঁন বানু। তাঁর ইচ্ছার প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবারের সদস্যরা ঐতিহ্যবাহী পালকি সাজিয়ে তাঁকে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে যান।
হারানো ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ
স্থানীয় ভোটারদের মতে, পালকিতে চড়ে ভোট দিতে আসা শুধু একটি ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছিল না—এটি যেন গ্রামীণ বাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যের একটি প্রতীকী প্রত্যাবর্তন। একসময় বিয়ে বা বিশেষ অনুষ্ঠানে পালকি ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই ঐতিহ্যের ছোঁয়া এই ঘটনাকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
রাজনৈতিক সচেতন পরিবারের উত্তরাধিকার
চাঁন বানুর পরিবার স্থানীয়ভাবে রাজনৈতিকভাবে সচেতন হিসেবে পরিচিত। তিনি এলাকার প্রয়াত রহমান শেখের স্ত্রী। তাঁর এক ছেলে অতীতে স্থানীয় ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। স্থানীয়দের ধারণা, পরিবারগত রাজনৈতিক সচেতনতার কারণেই এত বয়সেও ভোটের প্রতি তাঁর গভীর টান রয়েছে।
নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা
ভোট কেন্দ্রে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা জানান, শতবর্ষ পেরিয়েও চাঁন বানুর ভোট দিতে আসা বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি বড় বার্তা। অনেক তরুণ ভোটারও ঘটনাটি দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ভোট দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সময় তাঁর মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি—যা গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালনের সন্তুষ্টির প্রতিচ্ছবি।
গণতন্ত্রের শক্তি মানুষের অংশগ্রহণে
বাংলাদেশ-এর মতো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচনের প্রাণশক্তি হলো ভোটারদের অংশগ্রহণ। চাঁন বানুর মতো নাগরিকরা দেখিয়ে দেন—গণতন্ত্র শুধু তরুণদের নয়, সব প্রজন্মের সম্মিলিত চর্চা।


