ইসতিয়াক মাহমুদ মানিক

বিএনপির চেয়ারম্যান ঘোষণা ও উত্তরাঞ্চল সফর ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা তুঙ্গে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক তৎপরতায় ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নিয়মিত নিজ নির্বাচনি এলাকার নেতা-কর্মী, দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল নেতৃবৃন্দ, জোট শরিকদের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গেও ধারাবাহিক বৈঠক করছেন তিনি।
এসব বৈঠকে তারেক রহমান সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনার পাশাপাশি নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশ কীভাবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের পথে এগোতে পারে—সে বিষয়েও মতবিনিময় করছেন।
উত্তরাঞ্চলের ৯ জেলা সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান
যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন শেষে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর প্রথমবারের মতো আগামী ১১ থেকে ১৪ জানুয়ারি চার দিনের সফরে দেশের উত্তরাঞ্চলের ৯টি জেলা পরিদর্শনে যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
সফরসূচি অনুযায়ী,
-
১১ জানুয়ারি তিনি টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়ায় পৌঁছাবেন এবং সেখানে রাতযাপন করবেন।
-
১২ জানুয়ারি বগুড়া থেকে রংপুর ও দিনাজপুর হয়ে ঠাকুরগাঁও যাবেন।
-
১৩ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও থেকে পঞ্চগড়, এরপর নীলফামারী ও লালমনিরহাট হয়ে রংপুরে ফিরবেন।
-
১৪ জানুয়ারি রংপুর থেকে বগুড়া হয়ে ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
এই সফরে তিনি টাঙ্গাইলে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, রংপুরে শহীদ আবু সাঈদ, নিহত জুলাই যোদ্ধা ও দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত করবেন। দিনাজপুরে তাঁর নানি তৈয়বা মজুমদারের কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি আহত জুলাই যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।
শোককে শক্তিতে রূপান্তর
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাসন থেকে দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় মা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হারিয়ে গভীর শোকাহত হন তারেক রহমান। তবে ব্যক্তিগত শোককে পাশে রেখে দেশ ও জাতির স্বার্থে তিনি দ্রুত কর্মব্যস্ত হয়ে ওঠেন। নিয়মিত গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অফিস করছেন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী, নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন।
এসব বৈঠকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নির্বাচন-পরবর্তী রাষ্ট্র পুনর্গঠন, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে উত্তরণের কৌশল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রচারে নামছেন
দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২২ জানুয়ারি থেকে তারেক রহমান সরাসরি নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নেবেন। বিভাগীয় জনসভার পাশাপাশি ঢাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। জোট শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতেও তিনি প্রচারে যেতে পারেন।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে। প্রয়াত মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সিলেটে দুই সুফি সাধকের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
জোট রাজনীতি ও কূটনৈতিক যোগাযোগ
সাম্প্রতিক সময়ে গুলশানের কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাম দলগুলোর জোট গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট। বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি সেখানে যান। এছাড়া জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, জমিয়ত, এবি পার্টি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টির শীর্ষ নেতারাও পৃথকভাবে তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
কূটনৈতিক অঙ্গনেও সক্রিয় তিনি। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান, দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তারা তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার ও চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন-পরবর্তী উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতীক বরাদ্দের আগেই বিএনপির চেয়ারম্যান ঘোষণা
৩০ ডিসেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলীয় প্রধানের পদ শূন্য হয়। দলীয় সূত্র জানায়, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের আগেই তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
দলীয় গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতায় খুব শিগগিরই নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির নতুন চেয়ারম্যানের নাম জানানো হবে বলে দলীয় নেতারা নিশ্চিত করেছেন।


