অনলাইন ডেস্ক

গাজায় সেনা পাঠানো নিয়ে শর্তে অটল বাংলাদেশ, মিয়ানমার সীমান্তে কূটনৈতিক আপত্তি।
আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অবস্থান স্পষ্ট করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নির্বাচনকালীন সময়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি রোধে সাময়িকভাবে অন-অ্যারাইভাল ভিসা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ও ভিসা নীতি
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের সময় অস্থিতিশীলতা তৈরির আশঙ্কা থাকে এবং এ সুযোগে অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিদের হঠাৎ দেশে প্রবেশের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
তিনি বলেন,
“অন-অ্যারাইভাল ভিসা আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ভিসা বন্ধ করা হয়নি। যাদের উদ্দেশ্য পরিষ্কার ও বৈধ ভিসা রয়েছে, তারা যথারীতি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারবেন।”
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি সাময়িক ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যাতে নির্বাচনকালীন পরিবেশ শান্তিপূর্ণ থাকে।
পোস্টাল ব্যালট বিতর্ক: তদন্তের আশ্বাস
বাহরাইনে একটি বাসায় পোস্টাল ব্যালট গণনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, বিষয়টি তিনি নিজে দেখেছেন এবং এ নিয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্তের বিস্তারিত বা সময়সীমা নিয়ে তিনি মন্তব্য করেননি।
গাজায় সেনা পাঠানো নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান
গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সেনা পাঠানোর সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন,
“এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। কেবল আলোচনা চলছে।”
তিনি জানান, বাংলাদেশ তিনটি মৌলিক শর্ত পূরণ না হলে কোনো অবস্থাতেই সেখানে সেনা পাঠাবে না। শর্তগুলো হলো—
-
বাংলাদেশি সেনারা যুদ্ধে অংশ নেবে না
-
এমন কোনো কর্তৃপক্ষ থাকবে না, যাদের সঙ্গে যোগাযোগ বা সমন্বয় অসম্ভব
-
দায়িত্ব ও কাঠামো সম্পূর্ণভাবে স্পষ্ট হতে হবে
তিনি বলেন,
“এই পরিবেশ তৈরি না হলে আমরা সেখানে যাব না। শর্তগুলো পরিষ্কার—এরপরই চিন্তাভাবনা করা হবে।”
মিয়ানমার সীমান্ত সংঘাত ও কূটনৈতিক উদ্যোগ
মিয়ানমার সীমান্তে চলমান সংঘাতের বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা ব্যাখ্যা করে তৌহিদ হোসেন বলেন, এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিকভাবে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে আপত্তি জানানোই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতির মাঠপর্যায়ের বিস্তারিত তথ্য সব সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে তাৎক্ষণিকভাবে থাকে না। এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায়, তিনি দেশে ফিরলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে জানাতে পারবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।
সার্বিক বার্তা
প্রেস ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, নির্বাচন সামনে রেখে সরকার একদিকে যেমন নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সতর্ক অবস্থানে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সেনা মোতায়েন ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সতর্ক ও শর্তসাপেক্ষ কূটনীতি অনুসরণ করছে।


