
অনলাইন ডেস্ক : আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে প্রস্তুতিমূলক কর্মযজ্ঞ আরও জোরদার হয়েছে। একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোট আয়োজনের কথাও বিবেচনায় থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোর আলোচনা। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করেছেন।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে ডিএসসিএসসি কোর্স ২০২৫–এর গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজন করা হবে। এ ক্ষেত্রে সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা, দক্ষতা ও পেশাদারি নির্বাচন প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা কার্যক্রমে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ভোটকেন্দ্র সুরক্ষা, স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় টহল এবং সহিংসতা প্রতিরোধে সামরিক বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, দেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। নির্বাচন ও গণভোট—দুটিই জাতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করে তোলার দায়িত্ব সবার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারাও দায়িত্ব পালনে তাদের প্রস্তুতি ও প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, নির্বাচনকালীন সময়ে যে কোনো পরিস্থিতি সামাল দিতে বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
দেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয়—নির্বাচন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের গণভোট। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার, যার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে সামরিক বাহিনীর সক্রিয় অংশগ্রহণ।
প্রশাসন, সামরিক বাহিনী এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টায় আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু হবে—এমন প্রত্যাশা দেশবাসীর।


