অনলাইন ডেস্ক

লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পূর্ণ সম্মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থার মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে খোলাচিঠির মাধ্যমে এই বার্তা পাঠান।
চিঠিতে নির্বাচনের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অপব্যবহার, জীবনের সুরক্ষা, ব্যক্তির নিরাপত্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সভা-সমাবেশের অধিকার রক্ষায় প্রশাসনের ব্যর্থতার বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে। অ্যামনেস্টি মনে করিয়েছে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদগুলোর স্বাক্ষরকারী হলেও অন্তর্বর্তী প্রশাসন সেই বাধ্যবাধকতাগুলো কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে।
মহাসচিব অ্যাগনেস ক্যালামার্ড বলেন, “নাগরিকেরা যাতে অবাধে তাদের মত প্রকাশ করতে পারে এবং শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে, তা নিশ্চিত করা অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব। এটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে জনগণের পূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।”
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৪ সালে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে অন্তর্বর্তী প্রশাসন সাংবাদিক ও সমালোচকদের দমনে কঠোর সন্ত্রাসবিরোধী আইন (এটিএ) অপব্যবহার করেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের আগস্টে সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলম (পান্না) অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা করার অভিযোগে আটক হন। এছাড়া ডিসেম্বর মাসে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ‘আওয়ামী লীগের পক্ষে প্রোপাগান্ডা ছড়ানোর’ অভিযোগে একই আইনে গ্রেপ্তার করা হয়। অ্যামনেস্টি মনে করছে, এই গ্রেপ্তারগুলো মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
চিঠিতে ১৮ ডিসেম্বরের সহিংস ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দিন দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তা করা হয়। একই দিনে ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু ব্যক্তিকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আরও বলেন, মৌলিক স্বাধীনতার ওপর এমন সীমাবদ্ধতা জনগণের মুক্ত আলোচনা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকে বাধাগ্রস্ত করে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়।


