
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে দেশ আজ এক নীরব কিন্তু ভয়ংকর সংকটের মুখোমুখি—পুলিশের লুট হওয়া বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ। এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ১,৩৪০টি অস্ত্র ও আড়াই লাখের বেশি গুলির কোনো হদিস নেই। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা নয়, বরং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য একটি গভীর সতর্ক সংকেত।
লুট হওয়া এসব অস্ত্র সাধারণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র নয়। এগুলো প্রশিক্ষিত বাহিনীর ব্যবহারের উপযোগী, নির্ভুল ও প্রাণঘাতী। ফলে এগুলো যখন আন্ডারওয়ার্ল্ড বা রাজনৈতিক সহিংসতায় ব্যবহৃত হয়, তখন ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। গত ১৪ মাসে ২০টির বেশি জেলায় পাঁচ শতাধিক হত্যাকাণ্ড এই বাস্তবতারই নির্মম প্রমাণ।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্ত্র উদ্ধারে পুরস্কার ঘোষণা করলেও বাস্তব ফলাফল হতাশাজনক। শত শত অস্ত্রের বিপরীতে মাত্র ৩৫টি উদ্ধার—এই পরিসংখ্যান প্রশ্ন তোলে উদ্যোগের কার্যকারিতা ও গোয়েন্দা তৎপরতার গভীরতা নিয়ে। পুরস্কারের অঙ্ক বাড়ালেই যদি অস্ত্র ফিরে আসত, তাহলে পরিস্থিতি এতদিনে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসত।
আরও উদ্বেগজনক হলো—বৈধ অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখন অবৈধ হয়ে পড়েছে। হাজার হাজার লাইসেন্স বাতিল হলেও বহু অস্ত্র জমা পড়েনি। রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, ব্যবসায়ী ও আত্মগোপনে থাকা লাইসেন্সধারীদের অস্ত্র এখন কার হাতে—তা কেউ নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না। এ অবস্থায় অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যকার সীমারেখা কার্যত মুছে যাচ্ছে।
নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে এই অস্ত্রগুলো ব্যবহার হতে পারে রাজনৈতিক ভীতিপ্রদর্শন, প্রতিপক্ষ দমন কিংবা পরিকল্পিত সহিংসতায়। অতীত অভিজ্ঞতা বলে, অস্ত্রের অবাধ উপস্থিতি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায়। তাই এই সংকটকে কেবল আইনশৃঙ্খলা সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে; এটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্যও হুমকি।
এখন প্রয়োজন প্রতীকী ঘোষণার বাইরে গিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। সমন্বিত গোয়েন্দা অভিযান, অস্ত্র পাচার নেটওয়ার্ক ভাঙা, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আইনি ব্যবস্থা এবং নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বিশেষ নিরাপত্তা—এসব ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না।
রাষ্ট্র যদি সময়মতো এই লুট হওয়া অস্ত্রের লাগাম না টানে, তবে তার খেসারত দিতে হতে পারে রক্তক্ষয়ী নির্বাচন ও দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতার মাধ্যমে। প্রশ্ন একটাই—এই নীরব হুমকিকে আমরা কি শেষ মুহূর্তে এসে গুরুত্ব দেব, নাকি পরে মূল্য চুকাব?
সুফি সাগর সামস্
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান
বাংলাদেশ হিউম্যানিস্ট পার্টি-বিএইচপি।


