অনলাইন ডেস্ক : জেফ বেজোসের মালিকানাধীন মহাকাশ অনুসন্ধান প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করল। প্রতিষ্ঠানটি প্রথমবারের মতো তাদের ভারী উৎক্ষেপণযান নিউ গ্লেন রকেট মঙ্গল অভিযানে সফলভাবে পাঠিয়েছে। এই রকেটের মাধ্যমে নাসার দুটি মহাকাশযান মঙ্গল গ্রহের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে।
উৎক্ষেপণটি সম্পন্ন হয়েছে স্থানীয় সময় শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের কেপ ক্যানাভেরাল স্পেস ফোর্স স্টেশন থেকে। বহু প্রতীক্ষিত এই উৎক্ষেপণের মাধ্যমে ব্লু অরিজিন তাদের গভীর মহাকাশ অভিযানের সক্ষমতা নতুনভাবে প্রমাণ করল।
নিউ গ্লেন: ব্লু অরিজিনের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট
বহু বছরের উন্নয়ন ও পরীক্ষার পর নিউ গ্লেন প্রথমবারের মতো মঙ্গল অভিযানে ব্যবহৃত হলো। পুনঃব্যবহারযোগ্য প্রথম ধাপ, শক্তিশালী বুস্টার এবং ভারী পে–লোড বহনের ক্ষমতা দিয়ে রকেটটি ব্লু অরিজিনকে নতুন প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে এসেছে।
মহাকাশ গবেষণায় বাণিজ্যিক খাতের ভূমিকা বাড়ানোর যে প্রতিযোগিতা চলছে, সেখানে নিউ গ্লেনকে ব্লু অরিজিনের “গেম চেঞ্জার” বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলের পথে নাসার দুটি মহাকাশযান
ব্লু অরিজিন জানিয়েছে, নিউ গ্লেন রকেটের মাধ্যমে নাসার পাঠানো দুইটি স্বতন্ত্র মহাকাশযান সফলভাবে নির্ধারিত কক্ষপথে পৌঁছেছে। এই মহাকাশযানগুলো মঙ্গলের ভূত্বক, জলবায়ু, বায়ুমণ্ডল এবং সম্ভাব্য প্রাণের অতীত চিহ্ন অনুসন্ধানের কাজে যুক্ত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নাসা জানায়, উৎক্ষেপণ ও কক্ষপথ স্থাপন প্রক্রিয়া পরিকল্পনামাফিক সম্পন্ন হয়েছে। সামনে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মহাকাশযানগুলো মঙ্গলের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখবে।
ব্লু অরিজিনের জন্য নতুন অধ্যায়
উৎক্ষেপণ সফল হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ব্লু অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। সামাজিক মাধ্যমে তিনি জানান, “নিউ গ্লেনের প্রথম মঙ্গল অভিযান আমাদের জন্য গর্বের মুহূর্ত। এটি মানবজাতির মহাকাশ যাত্রাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিল।”
মহাকাশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেজোসের এই সাফল্য ভবিষ্যতের গভীর মহাকাশ অভিযানে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়িয়ে দেবে। নাসার জন্যও এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতার দৃষ্টান্ত।
মঙ্গল অভিযানে বেসরকারি রকেট ব্যবহারের এই সাফল্য মানবজাতির গ্রহান্তরের যাত্রায় আরেকটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


