অনলাইন ডেস্ক

ওয়াশিংটন, ২৪ জানুয়ারি (সিএনএন) – মানুষের চাঁদে পুনরায় পদচিহ্ন রাখার জন্য নাসার উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট আর্টেমিস-২ এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতির ধাপে। আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি নভোচারী রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ ও জেরেমি হ্যানসেন নিয়ে ওরিয়ন মহাকাশযান চাঁদের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
তবে মিশন শুরুর আগে নাসার ভিতরে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। মূল সমস্যা হলো ওরিয়ন মহাকাশযানের হিট শিল্ড, যা নভোচারীদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফেরার সময় চরম উত্তাপ থেকে রক্ষা করবে। ২০২২ সালের আর্টেমিস-১ পরীক্ষামূলক মিশনে দেখা গিয়েছিল, হিট শিল্ড থেকে পোড়া উপাদানের বড় টুকরো খসে পড়েছে।
সাবেক নাসা নভোচারী ও হিট শিল্ড বিশেষজ্ঞ ড. চার্লি কামার্ডা এই মানববাহী মিশনকে ‘উন্মাদনা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, অতীতেও নাসা ছোট ত্রুটি উপেক্ষা করে বড় বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছিল, যেমন কলম্বিয়া মহাকাশযান দুর্ঘটনা।
নাসা নেতৃত্ব দাবি করছে, সমস্যার মূল কারণ শনাক্ত করা হয়েছে। আর্টেমিস-১ এর হিট শিল্ডে উপাদানের ছিদ্রের কারণে ভেতরে গ্যাস জমে উপাদান ভেঙে পড়েছিল। আর্টেমিস-২ এ তারা নকশা পরিবর্তনের বদলে মহাকাশযানের ফেরার পথ সামান্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে উত্তাপের মাত্রা কমে আসে।
তবে ড. কামার্ডার মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কম্পিউটার সিমুলেশন বাস্তবের চরম পরিবেশের প্রতিফলন সবসময় দেয় না। মহাকাশযান যখন শব্দের চেয়ে ৩০ গুণ দ্রুত বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করবে, তখন ৫০০০ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রায় হিট শিল্ড কীভাবে আচরণ করবে তা শতভাগ নিশ্চিত নয়।
এই বিতর্কের মধ্যে মানবজীবনের নিরাপত্তা, নাসার বিশ্বাসযোগ্যতা এবং প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নাসার পক্ষে মিশন সফল হলে এটি হবে প্রযুক্তির বিজয়, কিন্তু সামান্যতম কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে এটি মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে কালো অধ্যায় হিসেবে লিখিত হবে।


