অনলাইন ডেস্ক

নাগাল্যান্ডের পাহাড়ঘেরা খোনোমা গ্রাম ভারতের অন্যতম অনন্য উদাহরণ, যেখানে সামাজিক আস্থা, সততা এবং পরিবেশ সংরক্ষণ একত্রে ধারা হয়ে আছে। শহরের কোলাহল ও আধুনিক পর্যটনকেন্দ্রের ঝলমলে পরিবেশের বাইরে থাকা এই গ্রামটি প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ ও দায়বদ্ধ জীবনযাপনের একটি নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়।
খোনোমা গ্রামটি ১৯৯৮ সালে খোনোমা নেচার কনজারভেশন অ্যান্ড ট্র্যাগোপান স্যাংচুয়ারি প্রতিষ্ঠার পর ভারতের প্রথম সবুজ গ্রাম হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। প্রায় ২০ বর্গকিলোমিটারের এই এলাকায় আংগামি নাগা জনগোষ্ঠী বসবাস করে। শিকার নিষিদ্ধ হওয়ার পর গ্রামের মানুষরা বন সংরক্ষণ, কৃষিকাজ ও পশুপালনে মনোযোগ দিচ্ছেন। ২০১১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী, গ্রামে প্রায় ১,৯০০ জন বসবাস করে।
খোনোমার সবচেয়ে নজরকাড়া দিক হলো গ্রামটির দোকান ব্যবস্থা। এখানে অনেক দোকানই দোকানদারবিহীন; ক্রেতারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে নির্ধারিত টাকা রেখে চলে যায়। গ্রামবাসীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা এত দৃঢ় যে কেউ প্রতারণার কথা ভাবতেও পারে না। অনেক বাড়িতেই তালা নেই, এবং কমিউনিটি লাইব্রেরি থেকেও যে কেউ বই নিয়ে পড়তে পারে।
পর্যটকদের জন্য খোনোমা প্রকৃতি ও ইতিহাসের মিলনস্থল। সবুজ বন, পাহাড়ি পথ ও নিরিবিলি পরিবেশে হাঁটা বা ট্রেকিং করা যায়। খোনোমা ফোর্টও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করে; উনিশ শতকে আংগামি নাগারা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।
খোনোমা গ্রাম দেখিয়ে দেয়, বিশ্বাস, সততা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলে সমাজকে কত সুন্দরভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। দোকানদার ছাড়াই দোকান, পরিবেশ সংরক্ষণ, কমিউনিটি উদ্যোগ—প্রতিটি ক্ষেত্রে খোনোমা ব্যতিক্রমী। ব্যস্ত আধুনিক জীবনে যখন মানবিক মূল্যবোধ ক্রমে হারিয়ে যাচ্ছে, তখন খোনোমা একটি নতুন বার্তা দেয়: উন্নয়ন মানে কেবল কংক্রিটের শহর নয়, বরং মানুষের আস্থা ও প্রকৃতির প্রতি দায়বদ্ধতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।


