নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে মুস্তাকিম মিয়া (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন।
বুধবার সকালে উপজেলার শ্রীনগর ইউনিয়নের সায়দাবাদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত মুস্তাকিম ওই এলাকার সৌদি প্রবাসী মাসুদ রানার ছেলে এবং স্থানীয় একটি স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
ঘটনার পরপরই এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরাঞ্চল সায়দাবাদ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন হানিফ মাস্টার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন এরশাদ মিয়া।
বুধবার সকালে এরশাদ মিয়ার অনুসারীরা দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হানিফ মাস্টারের অনুসারীদের বাড়িতে হামলা চালালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন এরশাদ গ্রুপের সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা মাসুম ওরফে চায়না গুলি করলে মুস্তাকিম গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সায়দাবাদ এলাকার রফিকুল ইসলাম (৩৭), সোহান (২৬) ও রোজিনা বেগম (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। বাকিদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিহতের মা শাহানা বেগম বলেন, “সকালবেলা আমার ছেলে ঘর থেকে বের হয়ে আঙিনায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় তাকে গুলি করা হয়। আমরা কোনো দলের সঙ্গে জড়িত নই। যারা আমার বুক খালি করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক বিমল চন্দ্র ধর জানান, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মুস্তাকিমকে হাসপাতালে আনা হলে প্রাথমিক পরীক্ষায় শরীরের বাম পাশে গুলির চিহ্ন পাওয়া যায়। গুলি শরীর ভেদ করে বের হয়ে গেছে। পরে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, “বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।”


