সুপ্রিমকোর্টে রিট পেন্ডিং থাকা অবস্থায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে ফিল্মিস্টাইলে লন্ডন প্রবাসীর ফ্র্যাট দখল করা হয়েছে।
বাসায় অবস্থায়রত ফ্ল্যাট মালিক মোঃ মনজুর হোসেনের ভাড়াটিয়া এসএ কবিরকে জোরপূর্বক ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। ক্যানসারের রোগী ভাড়াটিয়া এসএ কবির হোসেেনর শাশুড়িকেও হেস্তন্যাস্ত করা হয়েছে। বৃস্পতিবার রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, রাজধানীর এ্যালিফ্যান্ট রােডে অবস্থিত ম্যাজিক কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী মো: মনজরুর হোসেন ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা ফ্লট নম্বর ১১৪বি (পুরাতন) ৩৪এ (নতুন) সড়ক নং ৫ এ অবস্থিত ২৯৭২ স্কয়ারফুটের ফ্ল্যাটটি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বনানী শাখায় মর্গেজ রেখে এক কোটি ছাব্বিশ লক্ষ বিরাশি হাজার তিনশত তেষট্টি টাকা লোন নেন। যা সুদসহ হয় এক কোটি সত্তর লক্ষ এক চল্লিশ হাজার পাঁচশত পঞ্চান্ন টাকা একত্রিশ পয়সা। মনজুর হোসেন নিয়মিত ব্যাংকের লোন পরিশোধও করতে থাকেন। কিন্তু ২০১৩ ও ২০১৪ সালে দু’দফা আগুনে ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিনি লোন পরিশোধ করতে অক্ষম হয়ে পড়েন। বিষয়িট তিনি ব্যাংককে লিখিতভাবে জানান। একপর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন ও পরিবার নিয়ে লন্ডনে চলে যান। বিদেশে গিয়েও তিনি ব্যাংকের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাথেন। কিন্তু নিয়মিত লোন পরিশোধ করতে না পারায় ব্যাংক অর্থঋণ আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তিনি ফ্ল্যাটি ভাড়া দেয়ার জন্য ২০১৭ সালের জুন মাসে নোটিশ দেন। শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বনানী শাখার তৎকালীন ভাইস-চেয়ারম্যান মো: গোলাম কুদ্দুস তার পরিচয় গোপন করে তার স্ত্রীকে দিয়ে মাসিক ৫০ হাজার টাকায় ফ্ল্যাটটি ভাড়া নেন।
ইতিমধ্যে ২০১৯ সালের ৩রা ফেব্রুয়ারি ঢাকার ২ নং অর্থঋণ আদালত ব্যাংকের পক্ষে সার্টিফিকেট ইস্যু করে। শহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বনানী শাখার ভাইস-চেয়ারম্যান মো: গোলাম কুদ্দুস তখন তার পরিচয় প্রকাশ করে ফ্ল্যাট মালিককে বলেন এথন থেকে তিনি ব্যাংকে টাকা জমা দিবেন যা লোনের সাথে সমন্বয় করা হবে। মো: মনজরুল হোসেন বিয়ষটি মেনে নেন ও ব্যাংকের ম্যানেজারকে অবহিত করেন। কিন্ত পরবর্তীতে মো; মনজুর হোসেন জানতে পারেন শহজালাল ইসলামী ব্যাংকের বনানী শাখার ভাইস-চেয়ারম্যান মো: গোলাম কুদ্দুস ব্যাংককে ভাড়র টাকা পরিশোধ করছেন না । যার পরিমাণ দাড়াঁয় ৩৩ লক্ষ টাকা । বিষয়টি অবিহত করে ফ্ল্যাট মালিক একাধিকবার বাংলাদেশ বাংক ও শাহজালাল ইসলামী ব্যাংককে লিখিতভাবে জানান ও লোন পরিশোধ করার জন্য একাধিকবার আবেদন করেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে ৩৩ লক্ষ ভাড়া ও অন্যান্য বিল পরিশোধ না করেই হজালাল ইসলামী ব্যাংকের বনানী শাখার ভাইস-চেয়ারম্যান মো: গোলাম কুদ্দুস ফ্ল্যাট ছেড়ে পালিয়ে যান।
এরপর ফ্ল্যাট মালিক এস এ কবির নামক জনৈক ব্যবসায়ীর কাছ ফ্ল্যাটটি ভাড়া দেন। একাধিকবার লোন পরিশোধের আবেদন করেও কোন সুরাহা না পেয়ে তিনি সুপ্রিম কোর্টে বৃহস্পতিবার রিট দায়ের করেন। বিষয়িট জানতে পেরে ব্যাংকের লোক পরিচয় দিয়ে বৃহস্পিতবার ১৫/২০ জন লোক কোর্টের আদেশ ছাড়াই ভাড়াটিয়াকে ফ্ল্যাট ছেড়ে দিতে বললে তিনি আদালতের আদেশ দেখাতে বলেন। তারা আদালতের কোন আদেশ দেখাতে পারেননি। আদালত এখন পর্যন্ত অর্থঋণ আদালত আাইনের ৩৩(৭) (ক) ধারানুযায়ী দখল বুঝিয়ে না দেয়ায় বেআইনীভাবে ১৫/২০ জন লোক অবৈধভাবে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে ভাড়াটিয়ার মালামাল নামিয়ে ফেলেন। এসময় ফ্ল্যাটে একজন ক্যানসারের রোগী থাকলেও তারা তা কর্ণপাত করেন নি। বিষয়টি অবহিত করে ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া এসএ কবির রাজধানমন্ডি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছন।
সার্বিক বিষয় অভিহিত করে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ ব্যাংকে অভিযোগ দাখিল করেছেন ফ্ল্যান মালিক মো: মনজুর হোসেন। এবিষয়ে মো: মনজরুল হোসেন বলেন, আমি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছিলাম ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য। ব্যবসা দু’দফা আগুনে পুড়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট কিছু সময় লোন পরিশোধ করতে পারিনি। এরপর একাধিকবার লোন পরিশোধের জন্য লিখিতভাবে আবেদন করেছি। কিন্তু ব্যাংকটির মূল নজর ফ্ল্যাটটির প্রতি। ফ্ল্যাটটির বাজারমূল্য কমপক্ষে সাত কোটি টাকা। কিন্তু আমি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছি এক কোটি ছাব্বিশ লক্ষ বিরাশি হাজার তিনশত তেষট্টি টাকা। ব্যাংকটি আমার সাথে প্রতারণা করেছে। আমি ব্যাংকের ভাইস-চেয়ারম্যানের কাছে ৩৩ লক্ষ টাকা ভাড়ার টাকা পাই যা সমন্বয় করার কথা। এখন আমার ভাড়াটিার সাথে হয়েছে তা ফৌজদারি অপরাথ। অমি এ ঘটনার বিচার চাই। তিনি বলেন,
বর্তমান ঢাকার ৬ নং অর্থঋণ আদালতে ব্যাংকের করা অর্থজারি মামলা নং-৪৭০/২০২৫ চলমান রয়েছে। আমি মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে রিট দায়ের করেছি। রিট দায়েরর বিষয়টি নিশ্চত করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যরিস্টার সোলায়মান তুষার । তিনি বলেন, অতি দ্রুত রিটটি ক্ষমতা সম্পন্ন আদালতে শুনানি করা হবে।


